বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবার জ্বর আসে। কোনো কোনো ম্যালেরিয়ার আক্রমণে একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বর আসে। জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, অরুচি, বমি ইত্যাদি লক্ষণ ফুটে ওঠে। তীব্র ম্যালেরিয়ায় রোগী অচেতন হয়ে পড়ে। শুরু হতে পারে খিঁচুনি। রোগীর রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়। কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। ফুসফুসে পানি জমে। রক্তে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দেখা দেয় রক্তশূন্যতা। অনেক সময় শুরু হতে পারে গুরুতর ডায়রিয়া।

কোনো কোনো ম্যালেরিয়ায় একবার আক্রান্ত হলে বারবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, যকৃতে এই জীবাণু সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল থেকে যেতে পারে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ সাধারণত যকৃতের বাইরে অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকার ওপর আঘাত হানতে পারে। এ কারণে দেখা যায়, ব্যক্তি ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা থেকে ফেরত আসার দীর্ঘকাল পরেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত প্লাসমোডিয়াম ভাইভ্যাক্স এবং ওভেল নামক জীবাণু আক্রান্ত হলে বারবার ম্যালেরিয়া হতে পারে।

যারা বেশি ঝুঁকিতে

শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁরা ম্যালেরিয়ার সহজ শিকারে পরিণত হন। গর্ভবতী মায়েদের ম্যালেরিয়া হলে গর্ভের সন্তানের নানা জটিলতা হতে পারে। গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর ওজন হ্রাস অথবা মৃত নবজাতক প্রসবের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধ

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো ও দ্রুত চিকিৎসা নিলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়। ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা থেকে ফেরত ব্যক্তির জ্বর হলে অবশ্যই ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করাতে হবে। বাংলাদেশের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এবং ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যায়। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন মশার আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এ জন্য অবশ্যই রাতে মশারির ভেতর ঘুমাতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘরের ভেতরে মশকবিরোধী স্প্রে করা যেতে পারে। রাতে বাইরে বের হলে যাতে মশা না কামড়ায় সে জন্য ফুলহাতা শার্ট-প্যান্ট পরতে হবে।

লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সিএমএইচ

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন