অপারেশনের রোগীদের যেহেতু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওষুধ খেতে হয়, তাই আমরা ওষুধ খাওয়ার সময়টাকে ভাগ করে নিতে বলি। সাহ্‌রিটা সকাল হিসেবে, ইফতারকে দুপুর এবং রাতের খাবারকে রাত হিসেবে চিন্তা করে নিই। এ ক্ষেত্রে সকালের ওষুধটি আপনি সাহ্‌রিতে, দুপুরের ওষুধটি ইফতারে এবং রাতের জন্য নির্ধারিত ওষুধ রাতের খাবারের সময়ই খেতে পারেন। তাতে আপনার অপারেশন-পরবর্তী ওষুধ সেবন নিয়ে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং সুগার কমানোর জন্য ইনসুলিন নিয়ে থাকেন, তাহলে কিছু নিয়ম মানতে হবে। এ ক্ষেত্রেও ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

default-image

শরীরে ব্যথা থাকার পরও যদি রোজা রাখতে চান, তাহলে আপনি ব্যথানাশক ওষুধ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ হিসেবে যেটা শক্তিবর্ধক নয়, সেটা গ্রহণ করতে পারেন। অপারেশনের পর ডাক্তাররা সাধারণত রোগীকে পুষ্টিকর খাবার খেতে দেন। রোগী যদি রোজা রাখেন, তাহলে তাঁর কিছুটা পুষ্টির অভাব থেকে যায়। সে ক্ষেত্রে ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত তাঁর বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফলমূল ও খাবার খেতে হবে। অপারেশনের রোগীদের তুলনামূলক কম নড়াচড়া করতে হয়। এ ছাড়া অপারেশনের রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

রমজানের অনেক ভালো দিকের একটি হলো ধূমপান থেকে বিরত থাকা। রোজা রাখার ফলে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধূমপান থেকে বিরত থাকা হয়। রাতে আমরা গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমাই। তার মানে রমজানে ধূমপায়ীদের সব মিলিয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধূমপান থেকে বিরত থাকা হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। টানা এক মাস এই অভ্যাসের ফলে অনেকেই ধূমপান ছেড়ে দিতে পারেন।

রমজান মাসে শরবতসহ নানা রকম ইফতারে অনেকেই চিনি বেশি গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে আমরা বলব, শুধু অপারেশনের রোগীদেরই নয়, চিনি সবার জন্যই ক্ষতিকর। চিনি যত কম খাবেন স্বাস্থ্যের জন্য ততই ভালো। আর মিষ্টিজাতীয় কিছু যদি খেতেই হয়, তাহলে চিনির পরিবর্তে বিকল্প কিছু খেতে পারেন।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন