বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্রুত অস্ত্রোপচার জরুরি

সাবডুরাল হেমাটোমার পুরুত্ব ১ সেন্টিমিটারের বেশি হলে রোগীর মস্তিষ্কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচার করতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, অ্যাকিউট সাবডোরাল হেমাটোমা শনাক্তের চার ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হলে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। আর চার ঘণ্টার বেশি সময় পরে অস্ত্রোপচার করা হলে মাত্র ১০ শতাংশ রোগীর জীবন বাঁচানো যায়।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে মানুষের মারা যাওয়ার বড় একটি কারণ তীব্র সাবডুরাল হেমাটোমা। এ ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী শেষ পর্যন্ত মারা যান। এর বিপরীতে মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগী মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ফিরে পান। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার মানুষ এতে বেশি ভোগেন। তাই মোটরসাইকেল যাত্রায় চালক ও আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে।

বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি

ক্রনিক সাবডুরাল হেমাটোমা সাধারণত বয়স্কদের হতে দেখা যায়। বৃদ্ধ বয়সে মস্তিষ্ক বেশি ক্ষয় হয়। এ সময় মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো ভঙ্গুর থাকে। এর ফলে খুব অল্প আঘাতেই রক্তনালি ছিঁড়ে যেতে পারে। রক্তক্ষরণ হতে পারে। মাথাব্যথা, স্মৃতিভ্রম, কথা বলতে সমস্যা হওয়া, হাত–পা অবশ হয়ে আসা, প্যারালাইসিস হওয়া, খিঁচুনি ইত্যাদি লক্ষণ নিয়ে ক্রনিক সাবডোরাল হেমাটোমার রোগীরা চিকিৎসকের কাছে আসেন। সিটি স্ক্যান করে এ রোগ নির্ণয় করা হয়। শনাক্তের চার ঘণ্টার মধ্যেই অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন।

অবহেলা করা যাবে না

মাথায় আঘাত পেলে অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। এ ছাড়া তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি হলেও দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। বাংলাদেশে সাবডুরাল হেমাটোমার রোগী বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়। তাই সড়কে চলাফেরার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন