না বুঝে স্টেরয়েড গ্রহণে ঝুঁকি

মাংশপেশিতে ভর ও শক্তি বাড়াতে খেলোয়াড়েরা স্টেরয়েড গ্রহণ করেনছবি: পেক্সেলস

স্টেরয়েড একধরনের হরমোনজাতীয় ওষুধ যা প্রদাহ, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, অটোইমিউন রোগসহ বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করলে এর সুফল পাওয়া সম্ভব।

প্রাণ রক্ষাকারী ভূমিকার জন্য একে অনেকে ‘ম্যাজিক ড্রাগ’ বলেন। কিন্তু অপ্রয়োজনে দ্রুত সুস্থ হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা কাটানো, ওজন বাড়ানো কিংবা পেশি বৃদ্ধির আশায় অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড গ্রহণ করেন।

অনেক সময় দ্রুত নিরাময়ের জন্য দোকানদার বা গ্রাম্য চিকিৎসক রোগীর হাতে স্টেরয়েড ধরিয়ে দেন। স্টেরয়েডের এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তৈরি করতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সতর্কতা

স্টেরয়েডের মাত্রা, ব্যবহারের ধরন ও সময়সীমা রোগ ও রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের নিজস্ব কর্টিসল উৎপাদন কমে যেতে পারে। এ কারণে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ করে স্টেরয়েড বন্ধ করাও বিপজ্জনক হতে পারে।

স্টেরয়েডের অপব্যবহারে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি, শরীরে পানি জমা, ত্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখের কিছু সমস্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের অপব্যবহার নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমে যাওয়া, শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস, বন্ধ্যত্ব এবং অণ্ডকোষের আকার ছোট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়ম, কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া ও অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো পরিবর্তন ঘটতে পারে। কিছু পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।

অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে রক্তচাপ বৃদ্ধি, রক্তের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে লিভারের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুধু শারীরিক নয়। অতিরিক্ত ব্যবহারে মেজাজের পরিবর্তন, খিটখিটে স্বভাব, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করলেও শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড ব্যবহার বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে।

ডা. নাজমা আক্তার, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

আরও পড়ুন