ঘামের দুর্গন্ধ কাদের বেশি হয়, কীভাবে কমাবেন
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘাম শরীরের দুর্গন্ধের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে ঘাম সাধারণত দুর্গন্ধযুক্ত নয়। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ঘামের কিছু উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ তৈরি করলে শরীরে গন্ধ সৃষ্টি হয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ বের হওয়ার এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ব্রোমহাইড্রোসিস।
কাদের শরীরে দুর্গন্ধ বেশি হতে পারে
অতিরিক্ত ঘাম: দীর্ঘ সময় ত্বক আর্দ্র থাকায় এদের শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হয় বেশি।
বয়ঃসন্ধি: এই সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘাম ও শরীরের গন্ধ বাড়তে পারে।
হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থা, মেনোপজসহ বিভিন্ন হরমোনজনিত পরিবর্তনে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে।
কিছু খাবার ও পানীয়: পেঁয়াজ, রসুন, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার ও অ্যালকোহল কিছু মানুষের শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ: উদ্বেগ ও মানসিক চাপের সময় ঘামের ধরন ও পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে, যা শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলে।
আঁটসাঁট পোশাক: এমন পোশাকে বাতাস চলাচল কম হলে ঘাম শুকাতে দেরি হয় এবং দুর্গন্ধ বাড়ে।
রোগ বা ত্বকের সমস্যা: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, লিভার বা কিডনির কিছু রোগ এবং বিরল কিছু বিপাকীয় রোগে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ব্যাকটেরিয়াল বা ছত্রাকজনিত ত্বকের সমস্যাতেও দুর্গন্ধ হতে পারে।
দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক হলে শুধু সুগন্ধি ব্যবহার না করে এর মূল কারণ শনাক্ত করুন।
দুর্গন্ধ কমানোর উপায়
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: বগল, কুঁচকি ও পা প্রতিদিন ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন ও শুকনা রাখুন।
ঘাম নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত ঘামনিরোধক ব্যবহার করতে পারেন। ডিওডোরেন্ট মূলত দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শে আড়াই থেকে ৫ শতাংশ বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইডযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করা যেতে পারে।
পরিষ্কার পোশাক: ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করে, এমন পোশাক পরুন। ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করুন।
পায়ের যত্ন: প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করুন এবং জুতা শুকনা রাখুন।
বগলের যত্ন: বগলের লোম ছাঁটা বা পরিষ্কার রাখা।
খাদ্যাভ্যাস: পেঁয়াজ, রসুন, অতিরিক্ত মসলাদার খাবারের মতো নির্দিষ্ট কোনো খাবারে সমস্যা বাড়লে কমিয়ে দিন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ঘাম নিয়ন্ত্রণের পরও দুর্গন্ধ না কমলে, হঠাৎ শরীরের গন্ধের পরিবর্তন হলে, অতিরিক্ত ঘাম বা ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি কিংবা ক্ষত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরের দুর্গন্ধ সব সময় অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয় না। অতিরিক্ত ঘাম, ত্বকের সংক্রমণ, হরমোনের পরিবর্তন বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, গ্রিনরোড, ঢাকা