কোন কোন ওষুধ দাঁতের ক্ষতি করতে পারে
সাধারণ কিছু ওষুধ অনেক সময় মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কখনো সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, হতে পারে দাঁতের ক্ষতি।
অ্যান্টিবায়োটিক, বিশেষ করে টেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন শৈশব থেকে সেবন করলে দাঁতে স্থায়ী হলুদ বা বাদামি দাগ পড়তে পারে এবং দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে মুখে ফাঙ্গাল সংক্রমণ বা ওরাল ক্যান্ডিডিয়াসিস হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ, যেমন নিফেডিপিন ও অ্যামলোডিপিন মাড়ি ফুলে যাওয়া বা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এর ফলে দাঁত পরিষ্কার রাখা কঠিন হয় এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ডিপ্রেশন ও অন্যান্য মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন অ্যামিট্রিপটাইলিন, ফ্লুওক্সেটিন বা রিসপেরিডন মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা তৈরি করতে পারে। মুখে লালা কমে গেলে দাঁতে ক্যাভিটি বা গর্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং মুখে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি লাগতে পারে।
অ্যালার্জির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, যেমন সেটিরিজিন বা লোরাটাডিন লালার নিঃসরণ কমিয়ে মুখ শুষ্ক করে তোলে। দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবনে দাঁতের ক্ষয় দ্রুত হতে পারে।
খিঁচুনির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফেনাইটোইন মাড়ির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। এতে খাবার আটকে যাওয়া সহজ হয় এবং মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা পরবর্তী সময়ে মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
কেমোথেরাপি ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ মুখের ভেতরে ঘা, ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং রক্তপাতও হতে পারে।
দীর্ঘদিন স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে মুখে ফাঙ্গাল সংক্রমণ দেখা দিতে পারে এবং মুখের ক্ষত সারতে দেরি হয়।
অ্যাজমা বা হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনহেলার, বিশেষ করে যেসবে কর্টিকোস্টেরয়েড থাকে, সেসব ব্যবহারের পর মুখ না ধুলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দাঁতের ক্ষয় এবং মুখে ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
এ ছাড়া কিছু ব্যথানাশক ও নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ, যেমন অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন মাড়ি থেকে রক্তপাত বাড়াতে পারে এবং কখনো কখনো মুখে ঘা তৈরি করতে পারে।
শেষ কথা
সার্বিকভাবে বলা যায়, দীর্ঘদিন কোনো ওষুধ সেবনের সময় মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ইনহেলার ব্যবহারের পর মুখ কুলি করা এবং প্রয়োজনে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া মুখের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক