খালি পেটের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা করছেন না তো?
খালি পেটে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হলে অনেকেই সেটিকে সাধারণ ‘গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা’ বলে ধরে নেন। কিন্তু খালি পেটে ব্যথা খাওয়ার পর কিছুটা কমে গেলে এর পেছনে ডিওডেনাল আলসার নামের রোগ থাকতে পারে।
ডিওডেনাম হলো ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ, যা পাকস্থলীর সঙ্গে সংযুক্ত। এই অংশে কোনো ক্ষত বা ঘা তৈরি হলে তাকে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। এটি বেশ পরিচিত একটি রোগ এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো হয়ে যায়। ডিওডেনাল আলসারের অন্যতম কারণ হলো হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি নামের একটি জীবাণুর সংক্রমণ। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, ধূমপান, অনিয়মিত জীবনযাপন ও কিছু ক্ষেত্রে কোনো কারণে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণও এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এই রোগের একটি বিশেষ উপসর্গ হলো খালি পেটে বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে পেটের ওপরের অংশে ব্যথা হয় বা জ্বালাপোড়া করে। অনেক রোগী জানান, খাবার খাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য ব্যথা কমে যায়, তবে কয়েক ঘণ্টা পর আবার শুরু হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে রাতে ঘুমের মধ্যেও পেটের ব্যথা দেখা দেয়।
আর কিছু লক্ষণকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন রক্তবমি, কালচে পায়খানা, হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা বেড়ে যাওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডিওডেনাল আলসার প্রতিরোধে ধূমপান পরিহার, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার না করা, নিয়মিত খাবার খাওয়া ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুর সংক্রমণ দূর করার চিকিৎসা রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সব পেটব্যথাই সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নয়। শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে ডিওডেনাল আলসারের জটিলতা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।