গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, শিক্ষাবিদ এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. গোলাম কিবরিয়া, মেডিকেল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান ডা. তৌহিদুল করিম মজুমদার; গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈঠকের সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান রোগটি সম্পর্কে বলেন, ‘খাবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় খাদ্যনালি থেকে পাকস্থলীতে যায়। পাকস্থলীতে হজমপ্রক্রিয়া হয়। পাকস্থলী থেকে যেন জারক রসসহ অন্যান্য উপাদান খাদ্যনালিতে না যেতে পারে, সে জন্য পাকস্থলীতে একমুখী একটা দরজা (ভালভ) রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার খেলে অনেক সময় পাকস্থলী থেকে খাবার খাদ্যনালিতে চলে এলে জারক–রসের কারণে গলা-বুক জ্বালাপোড়া করে এবং মুখে টক পানি চলে আসে। কিছু নিয়ম মানলেই জীবনযাপনে এমন শরীরিক অস্বস্তির সমাধান করা যায়।’

দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, ‘গলা ও বুক জ্বালাপোড়া রোগটি অনেক দিন ধরে আমার সঙ্গী। যেকোনো শারীরিক সমস্যাই একজন মানুষের জন্য কষ্টকর। খাটের নিচে মাথার দিকে একটি ইট দিয়ে ঘুমাই আর ঘুমানোর আগে অ্যান্টাসিডজাতীয় ওষুধ সেবন করে যাচ্ছি। যতটা সচেতন থেকে এই সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, তা–ই করছি।’

অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, ‘অতিরিক্ত খাবার খেয়ে পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে হজমপ্রক্রিয়ায় গোলমাল হয়। তখন এই জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড তৈরি রোধ করতে এখন অনেক ওষুধ তৈরি হয়েছে। ওষুধগুলো যেন সবচেয়ে কার্যকর হয়, সেভাবে একজন রোগীকে ব্যবহার করতে হবে।’

এই রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়? এমন প্রশ্ন ছিল অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের কাছে। আমাদের রান্না কিংবা খাবার গ্রহণে গলদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডাল রান্নায় তেলে ভেজে যে রসুন ব্যবহার করা হয়, তাতে অনেকের গলা ও বুক জ্বালাপোড়া করে। তেল ও শুকনা মরিচ দিয়ে মাখানো কাঁচা আম খেয়ে পানি খেলে অনেকের একই সমস্যা হয়। তাই কার কোন কারণে উপসর্গ দেখা দেয়, খুঁজে বের করতে পারলে প্রতিরোধ করা সহজ হয়।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘এই রোগে সচেতনতার বিকল্প নেই। সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে মানুষ সহজে গ্রহণ করতে পারবে—এমন পরামর্শ দিতে হবে।’

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, ‘খুব সহজে যদি বলি আমাদের খাদ্যাভাস এবং জীবনযাপন প্রণালির মধ্যেই এই সমস্যা লুকিয়ে আছে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, খুব ভাজাপোড়া এবং মসলাজাতীয় খাবার বেশি খেলে এই সমস্যা হয়। অন্যরা একই সমস্যায় কী ধরনের ওষুধ সেবন করছেন, তা দেখে আমরা নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে ফেলি। এটা ঠিক নয়। সবাইকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।’
এই রোগে এখন নানা ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বলেন ডা. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, ‘আমরা প্রতিনিয়ত দেশে ব্যবহৃত ওষুধগুলোকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করি। এই রোগের জন্য নতুন আবিষ্কৃত মাল্টি ইউনিট পেলেট সিস্টেম (মাপস) এসেছে, যা গলা ও বুক জ্বালাপোড়া রোধে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে।’

সমাপনী বক্তব্যে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যা বোঝা গেল, তা হলো এই রোগে সচেতনতার বিকল্প নেই। পেটভরে খাওয়া যাবে না, খাওয়ার পরপর পানি খাওয়া যাবে না এবং খেয়ে উপুড় হওয়ার মতো কাজ করা যাবে না। এমন সহজ নিয়ম মেনে চললেই জীবন হবে আরও সহজ।’