জরায়ুমুখের ক্যানসার কীভাবে হয়, প্রতিকার ও চিকিৎসা কী
জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলে বেঁচে থাকা অনেকাংশে নির্ভর করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসায়।
বিশ্বে নারীদের যত ধরনের ক্যানসার হয়, তার মধ্যে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার অন্যতম। জরায়ুমুখ ক্যানসার বিশ্বজুড়ে নারীদের ক্যানসারে চতুর্থ ও ক্যানসারজনিত মৃত্যুর চতুর্থ শীর্ষ কারণ। এ ছাড়া স্তন ক্যানসার বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানীয় ক্যানসার। জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলে বেঁচে থাকা অনেকাংশে নির্ভর করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও কার্যকর চিকিৎসায়। দেরিতে রোগ শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেওয়া কঠিন ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।
জরায়ুমুখ ক্যানসার কীভাবে হয়
জরায়ুমুখ ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। এর সংক্রমণে জরায়ুমুখের আবরণী কলার স্বাভাবিক কোষে পরিবর্তনে ক্যানসার–পূর্ব অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর চিকিৎসা না হলে ১০ হতে ১৫ বছরের মধ্যে ক্যানসারে পরিণত হতে পারে। অধিক সন্তান জন্মদান ও ১৮ বছরের নিচে প্রথম সন্তানের জন্ম জরায়ুমুখ ক্যানসারে ঝুঁকি বাড়ায়। দারিদ্র্য আমাদের দেশে নারীদের জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম ঝুঁকির কারণ।
প্রাথমিক অবস্থা নির্ণয় ও প্রতিরোধ
প্রাথমিক অবস্থায় জরায়ুমুখ ক্যানসারের কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে না। ৩০ থেকে ৬০ বছরের অধিক বয়সী সব বিবাহিত নারীর প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জরায়ুমুখ স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করতে হবে। এই বয়সী নারীদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় এনে ক্যানসার পূর্বাবস্থায় তা নির্ণয় এবং চিকিৎসা করলে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা যায়। জরায়ুমুখ ক্যানসার স্ক্রিনিং সব নারীর জন্য প্রযোজ্য। এর জন্য কোনো উপসর্গ থাকার প্রয়োজন পড়ে না।
জরায়ুমুখ ক্যানসার ও ক্যানসার পূর্বাবস্থা নির্ণয়ের জন্য ভায়া পরীক্ষা গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। এটি সহজ পদ্ধতি। সরকার এই পরীক্ষা সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে চালু করেছে। দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, জেলা হাসপাতালে ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভায়া পরীক্ষা হয়।
দেশে ত্রিশোর্ধ্ব নারীর ২–৩ শতাংশ ক্যানসার–পূর্ব অবস্থায় আছেন। বর্তমানে দেশে ত্রিশোর্ধ্ব নারী রয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার। এ হিসাবে দেশে ৬–৯ লাখ নারী ক্যানসার–পূর্ব অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। জরায়ুমুখ ক্যানসার কমানোর জন্য ক্যানসার পূর্বাবস্থা বা ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের খুঁজে বের করে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা