মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে?

মানসিক রোগের ধরন, তীব্রতা ও আবার রোগটি হওয়ার ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে কত দিন ওষুধ খেতে হবেছবি: পেক্সেলস

১. মানসিক রোগের ওষুধ একবার শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না

মানসিক রোগের ধরন, তীব্রতা ও আবার রোগটি হওয়ার ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে কত দিন ওষুধ খেতে হবে। সব রোগীকে ওষুধ সারা জীবন খেতে হয় না। রোগী সুস্থ ও স্থিতিশীল হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ম মেনে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যায়। গুরুতর বিষণ্নতার ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত ওষুধ খেতে হতে পারে। ওসিডির লক্ষণ চলে যাওয়ার পর আরও এক বছর ওষুধ খেয়ে বন্ধ করা যায়। তবে ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়া থাকলে জীবনব্যাপী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

২. এসব ওষুধ খেলে রোগী সারা দিন ঘুমায় ও দুর্বল হয়ে পড়ে

কিছু ওষুধে শুরুতে ঘুম বা ঝিমুনিভাব হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ ওষুধে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না, সবার  ক্ষেত্রেও হয় না। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে নিজে নিজে বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শে  ডোজ, ওষুধ খাওয়ার সময় বা ওষুধ পরিবর্তন করা যায়। 

বেশির ভাগ মানসিক রোগের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে
ছবি: পেক্সেলস

৩. মানসিক রোগের ওষুধ খেলে মোটা ও অলস হয়ে যাবে

কোনো কোনো ওষুধে, যেমন কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধে খিদে বেড়ে যায়। ফলে ওজন বাড়তে পারে, কিন্তু সব ধরনের ওষুধে নয়।

৪. শুধু কাউন্সেলিং বা থেরাপিই ভালো

বেশির ভাগ মানসিক রোগের পেছনে থাকে মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতা। ওষুধ এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সিজোফ্রেনিয়া, গুরুতর বিষণ্নতা, ওসিডি, এডিএইচডি, অ্যাংজাইটি, বাইপোলার ডিজঅর্ডারের চিকিৎসায় ওষুধের গুরুত্ব বেশি। আবার কিছু কিছু মানসিক ‘সমস্যা’, যেমন সম্পর্কের জটিলতা, আচরণের সমস্যা, মৃদু বিষণ্নতা, ফোবিয়া ইত্যাদির চিকিৎসায় কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপির গুরুত্ব বেশি। সব রোগীর জন্য চিকিৎসা এক রকম নয়।

৫. মানসিক রোগ কখনো ভালো হয় না, তাই ওষুধ খেয়ে লাভ নেই

এটি একটি বড় ভুল ধারণা। বেশির ভাগ মানসিক রোগের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। সঠিক রোগনির্ণয়, উপযুক্ত ওষুধ, সাইকোথেরাপি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নেশা থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অনেক মানসিক রোগী পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেন।

  • অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ