কাঁধের পেছনের হাড় ভাঙলে কী করবেন

দুর্ঘটনা বা আঘাতে শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে যেতে পারে। এর মধ্যে কাঁধের পেছনের অংশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি হাড় হলো স্ক্যাপুলা। এই হাড়ে ফাটল বা ভাঙন হলে তাকে স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার বলে।

দুর্ঘটনা বা আঘাতে কাঁধের পেছনের অংশে থাকা হাড় (স্ক্যাপুলা) ভেঙে যেতে পারেছবি: পেক্সেলস

স্ক্যাপুলা বা কাঁধের ব্লেড হলো ত্রিভুজাকৃতির সমতল হাড়, যা পিঠের ওপরের অংশে অবস্থিত। এটি কাঁধের জোড়া গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ও বাহু নড়াচড়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই হাড়ের সঙ্গে বিভিন্ন পেশি ও লিগামেন্ট যুক্ত থাকে, যা হাত ওঠানো, ঘোরানো বা নড়াচড়া করতে সাহায্য করে। তাই স্ক্যাপুলায় আঘাত লাগলে পুরো কাঁধের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

লক্ষণ ও রোগনির্ণয়

কাঁধ বা পিঠের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা অনুভব, কাঁধ নড়াচড়া করতে অসুবিধা, কাঁধের পেছনে ফোলা বা কালচে দাগ, হাত তুলতে বা ঘোরাতে কষ্ট, গভীর শ্বাস নিলে ব্যথা অনুভূত হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যাপুলার আঘাতের সঙ্গে পাঁজরের হাড় ভাঙলে শ্বাসকষ্ট হয়।

চিকিৎসক প্রথমে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং আঘাতের ইতিহাস জেনে নেবেন। এরপর এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা অন্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে হাড়ের ভাঙনের ধরন নির্ণয় করা হয়। এতে বোঝা যায় ভাঙন কতটা গুরুতর এবং কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

চিকিৎসা

চিকিৎসক প্রথমে রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে কোথায় ভেঙেছে সেটা নিশ্চিত হতে হয়
ছবি: ফ্রিপিক

স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা আঘাতের মাত্রা ও ভাঙনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব।

রোগীকে কয়েক সপ্তাহ কাঁধ স্থির রাখতে স্লিং বা সাপোর্ট ব্যবহার করতে হয়, যাতে হাড় ধীরে ধীরে জোড়া লাগতে পারে।

ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া। হাড় জোড়া লাগার পর ধীরে ধীরে কাঁধের শক্তি ও নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপির কাজ রয়েছে।

যদি হাড়ের অংশ বেশি সরে যায়, ভাঙন জটিল হয় বা কাঁধের জোড়ায় সমস্যা তৈরি হয়, তখন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাড়কে সঠিক অবস্থানে বসানো হয়।

প্রতিরোধ ও সতর্কতা

দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার প্রতিরোধের প্রধান উপায়। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। খেলার সময় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ও ভারী কাজের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

স্ক্যাপুলা ফ্র্যাকচার খুব সাধারণ না হলেও গুরুতর আঘাত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে কাঁধের নড়াচড়া দীর্ঘদিনের জন্য সীমিত হয়ে যেতে পারে। তাই কাঁধে গুরুতর আঘাত লাগলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

অধ্যাপক ডা. জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন, আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা

আরও পড়ুন