গরমে অসুস্থতা কি শুধু বাইরে গেলেই হয়

চুলা, ওভেন, গরম তেল ও বাষ্পের কারণে রান্নাঘরের তাপমাত্রা সাধারণ ঘরের তুলনায় অনেক বেশি থাকেমডেল: হৃতিকা। ছবি: প্রথম আলো

প্রচণ্ড গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে অসুস্থতার কথা উঠলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে রোদে কাজ করা কৃষক, শ্রমিক, পথচারী বা বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী মানুষের ছবি। আমরা ভুলে যাই যে বাসায়ও কেউ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ঘরে, কারখানায় বা রান্নাঘরের মতো উষ্ণ পরিবেশে যাঁরা দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তাঁরাও সমানভাবে ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। অনেক সময় এই ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে, কারণ, ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যদি বদ্ধ ঘর হয়, তবে তো কথাই নেই।

মানবদেহ স্বাভাবিকভাবে ঘামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়; কিন্তু পরিবেশের তাপমাত্রা বেশি হলে বা বাতাস চলাচল কম থাকলে শরীরের এই প্রাকৃতিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পেশিতে টান, এমনকি হিট এক্সহস্টশন বা হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যা।

রান্নাঘরে কাজ করা মানুষদের, বিশেষ করে নারীদের কথা কিংবা গৃহকর্মীদের কথা কেউ ভাবেনই না। চুলা, ওভেন, গরম তেল ও বাষ্পের কারণে রান্নাঘরের তাপমাত্রা সাধারণ ঘরের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। ফ্ল্যাট বাড়িতে রান্নাঘরগুলো সাধারণত ছোট ও প্রায়ই আলো–বাতাসহীন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফ্যানও নেই। একইভাবে টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলহীন কর্মক্ষেত্র বা বিদ্যুৎহীন ছোট কক্ষও গরমের ফাঁদে পরিণত হতে পারে। ফলে বাইরে না গিয়েও শরীরে অতিরিক্ত তাপ জমে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গরমজনিত অসুস্থতার কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো—অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, তীব্র তৃষ্ণা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়া।

পরিস্থিতি গুরুতর হলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে বা রোগী হিটস্ট্রোক করে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসাসহায়তা নেওয়া জরুরি।