আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তার অনেকগুলো ভারী ধাতু বা হেভি মেটাল দ্বারা দূষিত—এমন সংবাদ প্রায়ই চোখে পড়ে। খাবারের সঙ্গে অজান্তেই শরীরে ঢুকে পড়তে পারে সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ বা আর্সেনিকের মতো ভারী ধাতু। এগুলো চোখে দেখা যায় না, স্বাদ বা গন্ধেও বোঝা যায় না। দীর্ঘদিন অল্প অল্প করে শরীরে জমতে থাকলে তৈরি হতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।
খাবারে কীভাবে আসে ভারী ধাতু
খাবারে ভারী ধাতু আসতে পারে মাঠ থেকে খাবার টেবিলে পৌঁছানোর বিভিন্ন পর্যায়ে। কারখানার বর্জ্য, দূষিত পানি ও মাটি এবং পুরোনো ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে ভারী ধাতু পরিবেশে ছড়াতে পারে। পরে এসব ধাতু শাকসবজি, ফল, শস্য ও মাছের মাধ্যমে আমাদের খাদ্যকে দূষিত করে।
ভারী ধাতু কী ক্ষতি করে
দীর্ঘদিন শরীরে ভারী ধাতু জমলে কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ভ্রূণ, শিশু ও ছোটদের মস্তিষ্কের বিকাশে স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এসব বিষাক্ত ধাতু শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে কোষ ও ডিএনএর ক্ষতিও করতে পারে। ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
করণীয়
ভারী ধাতুর ভয়ে কোনো খাবার বাদ দেওয়া সমাধান নয়। এতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হতে পারে। পুষ্টিবিদেরা বরং বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। নিয়মিত শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, আঁশযুক্ত খাবার ও কম পারদযুক্ত মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। একই রকম খাবার প্রতিদিন না খেয়ে বিভিন্ন উৎস ও এলাকার খাবার বেছে নেওয়া ভালো। খাদ্য বাজারে আসার পরও নিয়মিত নজরদারি জরুরি। নমুনা সংগ্রহ করে খাদ্যে রাসায়নিক দূষক, কীটনাশক ও জীবাণু পরীক্ষা করা দরকার। পাশাপাশি খামার ও খাদ্য কারখানা পরিদর্শন করাও দরকার। নতুন ঝুঁকি শনাক্ত হলে নির্দেশনা পরিবর্তন, সতর্কতা জারি বা ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।
লাজিনা ইসলাম চৌধুরী, পুষ্টিবিদ, রয়্যাল এইড হাসপাতাল, ঢাকা