চুইংগাম চিবানো ভালো না মন্দ

চুইংগাম যদি সঠিক নিয়মে এবং পরিমিত পরিমাণে চিবানো হয়, তবে এটি দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের মুখ শুষ্ক থাকে। তবে অতিরিক্ত চিবানোর অভ্যাস ডেকে আনতে পারে হাড় ও পেশির জটিলতা।

ভালো দিক

চুইংগাম চিবালে মুখে লালা উৎপাদন প্রায় ১০ গুণ বাড়ে। লালা মুখের ভেতর ব্যাকটেরিয়ার তৈরি করা ক্ষতিকর অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে দাঁতের এনামেলকে রক্ষা করে। লালায় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করে। খাবারকে পিচ্ছিল ও হজমে সহায়তা করে, এমনকি খাবারের স্বাদ বাড়ায়।

  • চুইংগাম চিবানোর ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে। এটি স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে।

  • চুইংগাম মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।

খারাপ দিক

  • চিনির উপস্থিতি দাঁতে ডেন্টাল ক্যারিজ বা ক্ষয় করে।

  • অতিরিক্ত চুইংগাম চিবানো চোয়ালের সন্ধি বা ‘টেমপোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট’ ও মাংসপেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে চোয়ালে ক্লিকের মতো শব্দ হওয়া, মাথাব্যথা এবং কান বা চোয়ালের ব্যথা হতে পারে।

  • কৃত্রিম চিনি যেমন সরবিটলের কারণে অনেকের ডায়রিয়াও হতে পারে।

যাদের চুইংগাম এড়িয়ে চলতে হবে

সম্প্রতি দাঁতের ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট বা ব্রেস লাগানো হয়েছে, চোয়ালের সমস্যা বা টিএমডি থাকলে, রাতে দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাস থাকলে কিংবা মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে চুইংগাম ভালো নয়। ছোট শিশু এবং যাঁদের গিলতে সমস্যা আছে, তাঁদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পরামর্শ 

  • জাইলিটল–সমৃদ্ধ চিনি–মুক্ত গাম বেছে নেওয়া উচিত

  • চোয়ালের পেশির ওপর চাপ কমাতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি চুইংগাম চিবানো উচিত নয়।

  • ভারি খাবার খাওয়ার পর চুইংগাম চিবানো সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন এটি দাঁত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ, দন্তবিশেষজ্ঞ, কলাবাগান রাজ ডেন্টাল সেন্টার