লক্ষণ

  • আক্রান্ত শিশুর চোখ, জিহ্বা হলুদ হয়ে যায়। পাশাপাশি তীব্র ক্ষুধামান্দ্য, বমি, ক্লান্তি, হলুদ প্রস্রাব, ওপরের পেটে ব্যথা ইত্যাদি থাকে।

  • অনেক সময় সারা শরীর চুলকায়। জন্ডিস বেশি হলে পায়খানার রং ফ্যাকাশে হতে পারে।

  • লিভারের সংক্রমণ তীব্র হলে আক্রান্ত বাচ্চার পেটে পানিও আসতে পারে।

  • তবে লিভার যদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে অনেক সময় বমির সঙ্গে রক্তও আসতে পারে, এমনকি অনেক সময় বাচ্চা জ্ঞানও হারায়।

করণীয়

  • পূর্ণ বিশ্রাম, তবে ঘরের ভেতর খেলাধুলায় সমস্যা নেই।

  • গোসল, খাবার, সবই আগের মতো হবে। খাবার নিয়ে জোর করা যাবে না। পানি খাবে, তবে ফলের রস, দুধ বেশি ভালো।

  • মাছ, মুরগির মাংস, কুসুম ছাড়া ডিম খেতে পারলে নিষেধ নেই। শাকসবজি খাওয়া ভালো। কারণ, রোগীর পায়খানা নিয়মিত হওয়া দরকার। তবে তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার বা দোকান থেকে আনা ফাস্ট ফুড না খাওয়াই ভালো।

  • বাচ্চার জন্ডিসের বিষয়টি চিকিৎসকের নজরে এনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।

প্রতিরোধ

  • বাচ্চাকে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) অনুমোদিত সব টিকা নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। এসব টিকার মধ্যে হেপাটাইটিস বির টিকা আছে, যা দেড় মাস বয়স থেকে দেওয়া হয়।

  • বেসরকারি পর্যায়ে হেপাটাইটিস এর টিকা কিনতে পাওয়া যায়, সেটি দিয়ে রাখা ভালো।

  • সব গর্ভবতী নারীর অবশ্যই হেপাটাইটিস বি, সি স্ক্রিনিং করতে হবে।

  • সব নবজাতককে জন্মের পরপরই হেপাটাইটিস বি টিকা (জিরো ডোজ) দিতে হবে, মায়ের বি স্ক্রিনিং নেগেটিভ হলেও। মায়ের বি স্ক্রিনিং যদি পজিটিভ হয়, সে ক্ষেত্রে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে হেপাটাইটিস বির পাশাপাশি এক ডোজ হেপাটাইটিস বি ইমিউনোগ্লোবুলিন দিতে হবে।

অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা, শিশুবিশেষজ্ঞ