ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথা বারবার ফিরে আসে কেন, সমাধান কী
জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ কম। অনেকের কাছে ব্যথা যেন জীবনেরই একটি অংশ।
ব্যথা হলে আমরা একটি ব্যথানাশক ওষুধ খাই, কিছুদিন বিশ্রাম নিই, ব্যথা কমে গেলে আবার আগের জীবনে ফিরে যাই।
কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় একই ব্যথা আবার ফিরে এসেছে, কখনো আরও বেশি তীব্র হয়ে ফিরে আসে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ব্যথার কারণ নয়, শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করি। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) চিকিৎসার এমন একটি ধরন, যা শুধু ব্যথা কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যথার কারণ খুঁজে বের করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।
ব্যথা সব সময় রোগ নয়, একটি সংকেত। ব্যথা অনেকটা অ্যালার্মের মতো। এটি শরীরের কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা। কোমরের ব্যথা হতে পারে দুর্বল কোর মাংসপেশির কারণে।
ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে। হাঁটুর ব্যথা হতে পারে ওজন বৃদ্ধি বা ভুলভাবে হাঁটার কারণে। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাংসপেশি ও হাড়-জোড়ের রোগ বর্তমানে কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।
পুনর্বাসন চিকিৎসা আসলে কী
অনেকেই মনে করেন রিহ্যাবিলিটেশন মানেই ফিজিওথেরাপি; বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ রোগীর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেন।
ব্যথার উৎস, মাংসপেশির শক্তি, অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) কার্যক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ব্যায়াম, ভঙ্গি সংশোধন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ, ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিজিওথেরাপি অকুপেশনাল থেরাপি, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ।
শুধু ব্যথা-বেদনা নয়, স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ব্রেন ইনজুরি, সেরিব্রাল পালসি, পারকিনসনস ডিজিজ, অঙ্গচ্ছেদ, খেলাধুলাজনিত আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি বাতরোগ, ক্যানসার–পরবর্তী দুর্বলতা, এমনকি হার্ট ও ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রেও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলাফেরা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ। সঠিকভাবে পরিচালিত শারীরিক কার্যক্রম ও ব্যায়াম নিজেই একটি শক্তিশালী চিকিৎসা। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ব্যথা কমায় না; এটি পেশি শক্তিশালী করে, জয়েন্ট সচল রাখে, হাড় মজবুত করে, হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখে ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
তবে সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়। বয়স, রোগ এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা জরুরি।
ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা