স্লিপম্যাক্সিং কী, পরিমিত ঘুমের জন্য কীভাবে এটি মেনে চলবেন

পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম মানসিক অবসাদ কমায়। মডেল: মুনিয়া ইসলামছবি: সজীব মিয়া

ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে তরুণদের মধ্যে ‘স্লিপম্যাক্সিং’ শব্দটি বর্তমানে আলোচিত। ‘স্লিপ’ অর্থ ঘুম আর ‘ম্যাক্সিং’ বা ‘ম্যাক্সিমাইজ’ অর্থ কোনো কিছুকে পূর্ণতায় নিয়ে যাওয়া। এর অর্থ হচ্ছে, ঘুমের মান ও সময়কে বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত উপায়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। এটি কেবল নিয়ম মেনে আট ঘণ্টা বিছানায় পড়ে থাকা নয়; বরং ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাসকে এমনভাবে উন্নত করা যাতে শরীর ও মন শতভাগ চনমনে থাকে। এই ধারণা মতে, পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমই হলো শারীরিক সৌন্দর্য ও মানসিক স্থিরতার চাবিকাঠি।

জীবনযাত্রার এই পরিবর্তন এখন বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বাস্থ্য আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। যারা নিয়মিত স্লিপম্যাক্সিং করেন, তাঁরা কিছু কঠোর ও বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম মেনে চলেন:

  • প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার: স্মার্ট ওয়াচ বা স্লিপ ট্র্যাকার ব্যবহার করে ঘুমের প্রতিটি পর্যায় র‍্যাম ও ডিপস্লিপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

  • আদর্শ পরিবেশ তৈরি: ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, একদম অন্ধকার নিশ্চিত করতে ‘ব্ল্যাকআউট’ পর্দা বা আই-মাস্ক ব্যবহার এবং কোলাহলমুক্ত পরিবেশ রাখা।

  • আলোকসম্পাত ও ধ্যান: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকা এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য ৩০ মিনিট মেডিটেশন করা।

  • ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির নীল আলো থেকে দূরে থাকা।

  • খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন (চা-কফি) ও ভারী খাবার পরিহার। অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ম্যাগনেসিয়াম বা মেলাটোনিন সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করেন।

  • অপ্রচলিত পদ্ধতি: কেউ কেউ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করতে ‘মাউথ টেপিং’ বা বিশেষ ধরনের বালিশ ব্যবহার করেন।

উপকারিতা

পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম মানসিক অবসাদ কমায়, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং দিনের বেলায় কর্মক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুমই হলো শারীরিক সৌন্দর্য ও মানসিক স্থিরতার চাবিকাঠি
ছবি: পেক্সেলস

ঝুঁকি

স্লিপম্যাক্সিংয়ের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ঘুমের মান নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে অনেকে ‘অর্থোসমনিয়া’ নামক সমস্যায় আক্রান্ত হন। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি তার স্লিপ ট্র্যাকারের ডেটা নিয়ে অতিমাত্রায় খুঁতখুঁতে হয়ে পড়েন। ‘কেন আজ ঘুম ভালো হলো না’ এই চিন্তাই উল্টো অনেকের রাতের ঘুম কেড়ে নেয় এবং অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।

বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়; বরং শরীরের অপরিহার্য প্রয়োজন। তবে কৃত্রিম পদ্ধতি বা গ্যাজেটের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে প্রাকৃতিকভাবে শান্তির ঘুম নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। যান্ত্রিকতার চেয়ে শরীর ও মনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখাই স্লিপম্যাক্সিংয়ের প্রকৃত সাফল্য।

ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা

আরও পড়ুন