উকুনের কারণে কি রক্তশূন্যতা হতে পারে
উকুন মাথার ত্বকে বাস করা একধরনের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী, যা মাথার রক্ত চুষে খেয়ে বেঁচে থাকে। সাধারণত উকুনের কামড়ে চুলকানি ও ত্বকে বিরক্তি তৈরি হওয়া ছাড়া এটিকে সরাসরি কোনো বড় ‘রোগ’ হিসেবে ধরা হয় না। তবে একে অবহেলা করলে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কী কী রোগ ও জটিলতা তৈরি করে?
উকুন সরাসরি কোনো বড় রোগ না হলেও কিছু জটিলতা তৈরি করে—
১. তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জি: উকুনের কামড় ও লালার কারণে মাথার ত্বকে অ্যালার্জি ও চুলকানি হয়।
২. সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে মাথার ত্বক ছিলে যেতে পারে। সেখানে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ঘটে ঘা বা ফোঁড়া তৈরি হতে পারে।৩. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে চুলকানি বেড়ে যায়, যা মানসিক ক্লান্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
উকুনের কারণে কি রক্তশূন্যতা হতে পারে?
হ্যাঁ, হতে পারে। যদিও সাধারণ বা অল্প উকুনে এটি হয় না, তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে মাথায় তীব্র মাত্রায় উকুনের সংক্রমণ থাকে, তবে প্রতিনিয়ত রক্ত চোষার ফলে বিশেষ করে ছোট শিশু ও পুষ্টিহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
ভেক্টর বা বাহক হিসেবে রোগ ছড়ায়?
সাধারণ মাথার উকুন সচরাচর বড় কোনো মহামারির ভেক্টর বা বাহক হিসেবে কাজ করে না। তবে পোশাক বা শরীরের উকুন ট্রেঞ্চ ফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার ও মারাত্মক টাইফাস রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।
চিকিৎসা
উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। জেনে নিন কী করা দরকার।
১. অ্যান্টিলাইস শ্যাম্পু বা লোশন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ‘পারমেথ্রিন’ বা উপযুক্ত উকুননাশক শ্যাম্পু ও লোশন সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।
২. ঘন চিরুনি (সরু চিরুনি): চুল ভেজা থাকা অবস্থায় সরু চিরুনি দিয়ে ভালো করে আঁচড়ে উকুন ও ডিম টেনে বের করে আনতে হবে।
কেন ও কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
উকুন দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। তাই পরিবার ও সমাজে এর বিস্তার রুখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
১. ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা: চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার, টুপি বা স্কার্ফ অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার গরম পানিতে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকাতে হবে।
৩. সচেতনতা: পরিবারের একজনের উকুন হলে সবার চুল পরীক্ষা করা ও প্রয়োজনে একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
৪. শিশুদের বেলায়: স্কুলে একে অপরের সঙ্গে মাথা ঠেকিয়ে বসা বা খেলাধুলা না করার ব্যাপারে সচেতন করা।
মাথার ত্বক পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা ও একটু সচেতনতাই পারে উকুনমুক্ত ও সুস্থ জীবন সুনিশ্চিত করতে।