অ্যাথলেট ফুট প্রতিরোধের উপায়

অ্যাথলেট ফুট ছত্রাকজনিত পায়ের দাদ। এটি পায়ের যেকোনো অংশকে সংক্রমিত করতে পারে। তবে প্রায়ই পায়ের আঙুলের মধ্যে বা ফাঁকে বেশি দেখা দেয়। পেশাগতভাবে সৈনিক, খনিশ্রমিক ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে পায়ের সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। ঘামের কারণে বা পানি জমে থাকার কারণে পায়ের আঙুলের মাঝখানের উষ্ণ স্থানে আর্দ্রতা বাড়ে, যা ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি ঘটায়। এটি সংক্রামক। সংক্রমিত ত্বক স্পর্শ করলে এই রোগ সরাসরি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংক্রমিত জিনিসপত্র যেমন মোজা, জুতা, জামাকাপড়, তোয়ালে, বিছানার চাদর, কার্পেট, বাথরুম, বাথটাব, সুইমিং পুলের আশপাশে বা লকার রুমের মেঝের সংস্পর্শে এসে মানুষ পরোক্ষভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

পায়ের কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

সব সময় পা পরিষ্কার রাখা উচিত। কাদাপানি লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে। জনবহুল স্থানে যেমন মসজিদে বা কোথাও খালি পায়ে হাঁটলে এসে পা ধুতে হবে।

পা ধোয়ার পর পায়ের আঙুলের মাঝখানের স্থান শুকাতে হবে। পায়ের আঙুলের ফাঁক সব সময় শুকনা রাখতে হবে। অজু বা গোসল করার পর মুছে ফেলতে হবে।

পায়ের জন্য আলাদা তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত পায়ের নখ ছোট করে কাটা; সংক্রমিত পায়ের নখের জন্য আলাদা নেইল ক্লিপার ব্যবহার করা উচিত।

প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরা উচিত। ভালোভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন, আর্দ্রতা শোষণকারী উপকরণ দিয়ে তৈরি মোজা ব্যবহার করা ভালো। সুতির মোজা সবচেয়ে ভালো। টাইট ফিটিং জুতা এড়িয়ে চলা উচিত। পা ঘেমে গেলে শুকাতে হবে।

বাড়িতে বা অফিসে বসে কাজ করার সময় সম্ভব হলে মোজা খুলে খোলা স্যান্ডেল পরা যেতে পারে।

জিম, পুল, শাওয়ার ও লকার রুমের মতো এলাকায় হাঁটার সময় স্যান্ডেল পরা উচিত। সর্বসাধারণের গোসলখানায় খালি পায়ে যাওয়া উচিত নয়।

পায়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহারের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যেতে পারে।

ক্লোরিন ব্লিচ একটি জীবাণুনাশক যা ছত্রাককে মেরে ফেলে। ক্লোরিন ব্লিচ দ্রবণ দিয়ে লকার রুমের মেঝে, বাথটাব, বাথরুমের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করলে রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।

অন্যদের সঙ্গে কখনো তোয়ালে, মোজা, জুতা বা বুট শেয়ার করা যাবে না।

  • ডা. লুবনা খন্দকার, সহযোগী অধ্যাপক, চর্মরোগ বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা