পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভুল ধারণা

প্রতীকী ছবি

পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) প্রজননক্ষম নারীদের একটি হরমোনজনিত রোগ। মূলত হরমোনজনিত সমস্যার জন্য সৃষ্ট কতগুলো লক্ষণের সমষ্টিগত বহিঃপ্রকাশ এটি। কিশোরীকাল থেকেই ওজন বৃদ্ধি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রমহীনতা এর জন্য দায়ী। এতে হরমোনের তারতম্য, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সসহ নানা ধরনের বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেয়।

পিসিওএসে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু পিসিওএসে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যেমন

  • পিসিওএসে শর্করা নেওয়া যাবে না ভেবে অনেকেই রোগ নির্ণয়ের পর শর্করা বাদ দেন বা কিটো ডায়েট করেন, যা একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়; বরং শর্করার ধরন পাল্টাতে হবে। লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ শর্করা, যেমন গোটা শস্যজাতীয় খাবার (লাল চাল, লাল আটা, ওটস, কুইনোয়া, বার্লি), পানসে সবজি ও ফল, যা রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে, সেসব খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।

  • পিসিওএসে দুধ একেবারে বাদ না দিয়ে ননিহীন দুধ বা লো-ফ্যাটসমৃদ্ধ দুধ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

  • সব চর্বি কিন্তু খারাপ নয়। ঝুঁকিপূর্ণ ট্রান্সফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যকর চর্বিজাতীয় খাবার বাড়াতে হবে, যেমন সামুদ্রিক মাছ, অ্যাভাকাডো, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সিড, কাঠবাদাম, আখরোট, অলিভ অয়েল, ডার্ক চকলেট। কারণ, ভালো চর্বি ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্স ও ওভারির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

  • সয়ার তৈরি খাবার একেবারেই না, এমনটা ভুল ধারণা। সয়াতে ফাইটোইস্ট্রোজেন থাকে,যা পিসিওএসে বিভিন্ন প্রজনন হরমোনের কাজে বাধা দেয়। তবে সপ্তাহে এক দিন সয়ামিল্ক, তফু বা সয়ার খাবার নিলে তেমন সমস্যা হয় না। অবশ্য বেশি পরিমাণে ঘন ঘন না নেওয়াই ভালো।

  • ফল খাওয়া যাবে না, এটাও আরেক ভুল ধারণা। পিসিওএসে যেসব ফলের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কম, সেসব বেছে নিতে হবে, যেমন বেরি, আপেল, নাসপাতি, পেয়ারা, আমড়া, বরই, কমলা, স্ট্রবেরি, কিউই, আনার।

পিসিওএসে খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কিছু পরামর্শ

  • প্রিবায়োটিক (পেঁয়াজ, রসুন, কলা, তিসি, বাঁধাকপি, কোকো-পাউডার) ও প্রোবায়োটিক (ফার্মেন্টেড সবজি, আচার, টক দই, কেফির, কিমচি) পিসিওএসের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • ভিটামিন ডি গ্লুকোজ মেটাবলিজম ও ইনসুলিনের কাজে সহায়তা করে। তাই ভিটামিন ডি–এর ঘাটতি থাকলে ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট (সম্পূরক) নিতে হবে।

  • পিসিওএসে দুধ চায়ের পরিবর্তে বিভিন্ন হারবাল চা, মসলা চায়ের অভ্যাস করতে হবে। এ ছাড়াও হলুদ, দারুচিনি, জিরা, মেথি, আদা, রসুন, গোলমরিচ, স্যাফ্রন, লবঙ্গ, এলাচি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

  • সব প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় ও খাবার, তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চার পা–যুক্ত প্রাণীর মাংস ও অর্গান মিট কম খেতে হবে।

  • ফাহমিদা হাশেম, জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, ল্যাবএইড ও ফিটব্যাক রিসেট