কাদের ঝুঁকি বেশি

শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ, এদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বিপাক এবং বিভিন্ন পরিবর্তন খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। যকৃতের রোগ, এইডস এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই তাদের ঝুঁকি বেশি।

জটিলতা কি হতে পারে

তীব্র পানিশূন্যতা সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা। গর্ভাবস্থায় খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে সমস্যা বেশি জটিল হয়। ই.কোলি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি হেমোলিটিক ইউরেমিক সিনড্রোম নামক মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক, দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ নির্ণয়

আক্রান্ত ব্যক্তির ইতিহাস শুনে, কত দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন, বিভিন্ন লক্ষণ এবং যে খাবারগুলো খেয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন চিকিৎসক। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ক্ষেত্রে কী দায়ী, তা নির্ধারণ করতে মল এবং রক্ত পরীক্ষা করা যায়। এ ছাড়া পাতলা পায়খানার জটিলতা দেখতে কিডনি, রক্তের লবণ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হয়।

চিকিৎসা কী

খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে বাড়িতেই চিকিৎসা করা যেতে পারে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়। নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেটেড রাখুন। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানি পান করুন। পানিশূন্যতা তীব্র হলে শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়া–প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। যদিও এটি শুধু প্রয়োজনেই ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ডায়রিয়া শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। তাই নিজে নিজে বা দোকানির পরামর্শে ডায়রিয়া বন্ধ করার ওষুধ খাবেন না। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের প্রয়োজন পড়তে পারে। সংক্রামিত ব্যাকটেরিয়া অনেক সময় এমন টক্সিন উৎপন্ন করে সহজে যা শরীর থেকে দূর করা কঠিন। এ অবস্থায় বিষক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করতে অ্যান্টিটক্সিন ওষুধ দিতে পারেন ডাক্তার।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার সময় আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে জন্য বিশ্রাম খুব উপকারী। ফুড পয়জনিংয়ের সময় নিয়মমতো খাওয়া ও বিশ্রাম দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সহায়ক।

কী খাব

ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার সময় খাদ্যতালিকায় রাখুন কলা, ভাত, মুরগির পাতলা ঝোল, সেদ্ধ শাকসবজি, টোস্ট, ফলের রস বা ডাবের পানি। এড়িয়ে চলুন চর্বিযুক্ত খাবার, দুগ্ধজাত খাবার, মসলাদার এবং ভাজা খাবার, উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার আর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।

ঘরোয়া প্রতিকার

ফুড পয়জনিং হলে প্রতিদিন কুঁচি আদার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু খেতে পারেন, হজমশক্তি বাড়বে ও পেটব্যথা কমবে। পেট খারাপ, পেটব্যথার মতো সমস্যা নিমেষে ঠিক করে দিতে পারে এক চা-চামচ জিরাগুঁড়ো। তুলসীপাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুফল পাবেন। কলাতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা ফুড পয়জনিং কমাতে সাহায্য করে। একটা কলার সঙ্গে আপেল গ্রেট করে বা এক গ্লাস বানানা শেক খেলেও উপকার পাবেন। যে সব ব্যাকটেরিয়ার জন্য ফুড পয়জনিং হয়, লেবুর রসের অ্যাসিডিটিতে তার প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। একটা গোটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে সামান্য চিনি দিয়ে খেতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার হয়। ফুড পয়জনিংয়ের সময় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

*ডা. এ টি এম রফিক উজ্জ্বল: রেজিস্ট্রার, শিশুরোগ বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা