default-image

দাঁতের গর্ত থেকে জটিলতা

একবার গর্ত হয়ে গেলে পরে ভালোভাবে ব্রাশ করে বা ওষুধ সেবনের মাধ্যমেও ঠিক করা যায় না। যত দ্রুত সম্ভব দন্তচিকিৎসকের পরামর্শে ফিলিং (গর্ত ভরাট) নামক চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ করা যায়। এটি অতি সাধারণ চিকিৎসা, খরচও স্বল্প। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ের গর্ত তেমন কোনো সমস্যা করে না বলে অনেকেই একে অবহেলা করে। পরে দাঁতের ভেতরের মজ্জা সংক্রমিত হয়ে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। তখন রুট ক্যানেল নামক জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

অনেকে আবার ব্যথা কমানোর জন্য চিকিৎসা ছাড়াই ফার্মাসি থেকে নানা ওষুধ সেবন করে নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। গর্ত থেকে সংক্রমণ দাঁতের গোড়ায় বা হাড়ের মধ্যে ছড়িয়ে গ্রানুলোমা, পুঁজ, সিস্ট, সেলুলাইটিসসহ নানা জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। ভাঙা দাঁতের অমসৃণ অংশ জিহ্বা বা চোয়ালে ক্ষত তৈরি করে। দীর্ঘসময় এই ক্ষত রয়ে গেলে ক্যানসারের মতো ভয়াবহ সমস্যাও হতে পারে। অতিরিক্ত অবহেলায় দাঁতটির ধারক কলা নষ্ট হয়ে দাঁত হারাতে হয়।

করণীয়

দাঁতে গর্ত যেন না হয়, প্রথমে সেই চেষ্টা করতে হবে। সে জন্য সকালে নাশতার পর ও রাতে খাবার শেষে দুই মিনিট ধরে ফ্লোরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ও নরম টুথব্রাশ দিয়ে দাঁতের মোট পাঁচটি পৃষ্ঠ পরিষ্কার করতে হবে। দাঁতের ফাঁকে খাবার ঢুকলে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা জরুরি। যাঁদের মুখ শুষ্ক থাকে বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, বিষণ্নতা, ক্যানসার, উচ্চরক্তচাপ রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারে। অসম বা উঁচুনিচু ফাঁকা দাঁত পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি জানতে হবে।

মিষ্টিজাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, টকদইজাতীয় খাবার খেতে হবে। ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। জরুরি বিষয় হচ্ছে, ব্যথা হোক বা না হোক, বছরে অন্তত একবার বৈধ দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনো অবৈজ্ঞানিক বা কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে বা অসাধু হাতুড়ে ডাক্তারের খপ্পরে অপচিকিৎসায় অতি মূল্যবান দাঁত হারানো যাবে না। দাঁতে পোকা বলে কিছু নেই। পোকা বের করার গল্পও তাই ধোঁকাবাজি বই কিছু নয়।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা: দন্তবিশেষজ্ঞ, কলাবাগান রাজ ডেন্টাল সেন্টার

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন