আবার কিছু ওষুধ খাবার খাওয়ার পরে খেলে ভালো। কারণ, এগুলো ভরা পেটে শরীরে ভালোভাবে কাজ করে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয় কম। এ রকম ওষুধের মধ্যে প্রথমেই আসে ব্যথার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ (ন্যাপ্রোক্সেন, সুলিন্ডাক, কিটোরোলাক, আইবুপ্রোফেন)। এগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই খেতে হবে! আর জ্বর বা হালকা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলও খাবার খাওয়ার পর খেতে বলা হয়, তবে খালি পেটেও খাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক (সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, সেফুরক্সিম, সেফিক্সিম), অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট বা সিরাপ খাবার খাওয়ার পরে খেতে হয়।

কিছু ওষুধ সকালে খাওয়া ভালো। যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ওষুধ, শরীরের পানি কমানোর জন্য ব্যবহৃত ওষুধ (ফ্রুসেমাইড)। যাঁদের মাল্টিভিটামিন বা কোনো নিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক, তাঁরা সেগুলো সকালে খাবার খাওয়ার পরে খেতে পারেন। তবে যদি আয়রন ও ক্যালসিয়াম দুটোই গ্রহণ করতে হয়, তাহলে আয়রন সকালে আর ক্যালসিয়াম দুপুরে গ্রহণ করা ভালো। কারণ, আয়রন শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ ব্যাহত করতে পারে। আর আয়রন সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ভিটামিন সি–জাতীয় খাবার খেলে সেটা ভালোভাবে শোষিত হয়।

কিছু ওষুধ দুপুরে খাওয়া উত্তম। যেমন অ্যাসপিরিন–জাতীয় ওষুধ। আর কিছু ওষুধ রাতে খাওয়া উত্তম। অনিদ্রা, মানসিক চাপ কমানোর জন্য ব্যবহৃত স্লিপিং পিল, অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যান্টিডিপ্রেসিভ–জাতীয় ওষুধগুলো ঘুমাতে যাওয়ার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে খেতে বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া যেসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ঝিমুনির ভাব হয়, সেগুলো রাতে খেতে হয়, যেমন সিডেটিভ, অ্যান্টিহিস্টামিন, মাসল রিলাক্সেন্ট, অ্যামিট্রিপটাইলিন ইত্যাদি।

সব ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে, ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া বা সম্পূর্ণ কোর্স শেষ হওয়ার আগেই বাদ দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই কোর্স শেষ করতে হবে। গর্ভাবস্থায় বা সন্তান ধারণের আগে থেকে কোনো ওষুধ চলমান থাকলে চিকিৎসককে তা জানাতে হবে। ধূমপান, মদ্যপান ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।