প্রোটিন শেক কি প্রাকৃতিক প্রোটিনের বিকল্প, কাদের বাড়তি প্রোটিন দরকার

আমিষ বা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে আজকাল অনেকে প্রোটিন শেক বা প্রোটিন পাউডার খেয়ে থাকেন। প্রোটিন শেক নানা রকম হয়। সব প্রোটিন শেক কি সবার জন্য উপযোগী? এটা কি প্রেটিনের বিকল্প হতে পারে, নাকি প্রোটিন শেকে কোন ঝুঁকি আছে?

প্রোটিন শেক নানা রকম হয়ছবি: পেক্সেলস

প্রোটিন শেক হলো প্রোটিন পাউডার দিয়ে তৈরি একধরনের পানীয়। পানীয় আকারেও কেনা যায়, আবার পাউডারও পাওয়া যায়। দুধ, ডিম বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি হয় প্রোটিন শেক। প্রোটিন ছাড়াও এতে থাকতে পারে কিছু ভিটামিন, খনিজ উপাদান, চিনি কিংবা কৃত্রিম ফ্লেভার। সাধারণত প্রতি পরিবেশনে (পার সার্ভিং) ১০ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

এ ধরনের পানীয় সত্যিই কি প্রয়োজন

মুরগির মাংষ থেকে প্রচুর প্রোটিন মেলে
ছবি: সুমন ইউসুফ

সাধারণভাবে একজন মানুষের ঠিক কতটা প্রোটিন দরকার, তাঁর ওজনের ওপর তা নির্ভর করে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের নিজের দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোজ শূন্য দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। সেই হিসাবে ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের রোজ ৫৬ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

মুরগির বড়সড় আকারের একটা ডিম থেকেই আপনি ৬ গ্রাম প্রোটিন পেয়ে যাবেন। আকারে ছোট হলে প্রোটিনের পরিমাণ একটু কমবে। মাছ, মাংস, দুধ, সয়া, নানা রকম ডাল ও বীজজাতীয় খাবার (যেমন কিনোয়া, মিষ্টিকুমড়ার বীজ প্রভৃতি) থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়। বুঝতেই পারছেন, রোজকার সুষম খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন পাওয়া যায়। তাই আলাদা করে প্রোটিন শেক নেওয়ার প্রয়োজন সাধারণত নেই; আর অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা উচিতও নয়।

তাহলে কাদের জন্য প্রোটিন শেক

শারীরিক পরিশ্রমের খেলাধুলা যাঁরা করেন, তাঁদের প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোজ ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৪ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন
ছবি: পেক্সেলস

যাঁদের রোজকার প্রোটিনের চাহিদা খাবারের মাধ্যমে পুরোপুরি পূরণ হয় না, কেবল তাঁদের জন্যই প্রোটিন শেক প্রয়োজন। তবে কেবল প্রোটিন শেকের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়।

  • নিরামিষাশী মানুষ প্রোটিন শেক খেতে পারেন।

  • দুধ খেলে যাঁদের শারীরিক সমস্যা হয়, তাঁদেরও প্রয়োজন হতে পারে প্রোটিন শেক।

  • শরীরে বড় ধরনের আঘাত লাগলে বা বড় ধরনের ক্ষত হলে সারতে কিছুটা বাড়তি প্রোটিন কাজে লাগে। অপারেশনের পর বাড়তি প্রোটিন দরকার হতে পারে।

  • অ্যাথলেটিকস বা শারীরিক পরিশ্রমের খেলাধুলা যাঁরা করেন, তাঁদের প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোজ ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৪ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। আর এ ধরনের কার্যক্রমে যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে অংশ নেন, তাঁদের প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোজ প্রয়োজন ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৪ গ্রাম প্রোটিন। আলট্রা-এন্ডুরেন্স বা অতিমাত্রার কঠিন অ্যাথলেটিকসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিজের দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২ গ্রাম পর্যন্ত আমিষ প্রয়োজন হয় রোজ।

  • যেসব ক্রীড়াবিদ পেশি গঠন করেন, তাঁদের নিজের দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ৫ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন রোজ।

  • বার্ধক্যে পেশির ঘনত্ব বজায় রাখার জন্য কিছুটা বাড়তি প্রোটিনের প্রয়োজন হয় (নিজের দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ৩৩ গ্রাম)। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো রোগের কারণে প্রোটিন গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকলে সেটি মেনে চলতে হবে।

  • দুর্গম এলাকায় ভ্রমণের সময় রোজকার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না হলে প্রোটিন শেক সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

উঠতি বয়সীদের কি লাগে?

এই বয়সে প্রোটিন শেক এড়িয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকেই এই প্রোটিন গ্রহণ করা ভালো
ছবি: অগ্নিলা আহমেদ

কৈশোরে দেহের বৃদ্ধি হয়। খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপেরও বয়স এটা। এ সময় প্রোটিনের চাহিদা একটু বেশি থাকে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী মানুষের নিজের প্রতি কেজি ওজনের জন্য শূন্য দশমিক ৮৮ থেকে ১ দশমিক ১১ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। এই বয়সী অ্যাথলেটদের নিজের দেহের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ দশমিক ১১ থেকে ১ দশমিক ৭৭ গ্রাম প্রোটিন দরকার। তবে এই বয়সে প্রোটিন শেক এড়িয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকেই এই প্রোটিন গ্রহণ করা ভালো।

যেভাবে বেছে নেবেন

  • কিছু প্রোটিন শেক দুধ কিংবা দুগ্ধজাত হুই (ঘোল) এবং কেসিন নামের উপাদান থেকে তৈরি হয়। দুধ খেলে যাঁদের সমস্যা হয়, তাঁদের এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

  • কিছু প্রোটিন শেক তৈরি হয় ডিম, সয়া, চাল, মটর বা অন্য উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে। যিনি যে উপাদানে স্বস্তি পান, সেটি বেছে নিন।

  • প্রোটিন শেক কেনার সময় প্রোটিনের মাত্রা দেখে নিন। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন শেক বেছে নিন।

  • কেনার সময় ক্যালরির দিকটাও খেয়াল রাখুন। চিনি বা কৃত্রিম উপকরণ থাকলে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

ক্ষতিকর দিক আছে কি না

  • প্রোটিন শেকের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, সেটির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ত্বক ফুলে যেতে পারে, দেখা দিতে পারে ফুসকুড়ি। আবার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (দুধ অসহিষ্ণুতা) থাকলে কিছু হুই প্রোটিন শেক খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি, ব্যথা কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে।

  • অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা যে উৎস থেকেই আসুক না কেন। যেমন কিডনির রোগীদের জন্য বাড়তি প্রোটিন ক্ষতিকর।

  • কিছু প্রোটিন শেকে অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে খানিকটা ভারী ধাতু (হেভি মেটাল) পাওয়া গেছে, যদিও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় নয়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন শেক গ্রহণ করলে এসব উপাদানের বিষক্রিয়া হতেও পারে।

ওয়েবএমডি অবলম্বনে

আরও পড়ুন