খাদ্যাভ্যাস হোক স্বাস্থ্যকর

সবাই মিলে বাইরে খেতে গেলে কিংবা বন্ধুবান্ধবের আড্ডায়ও স্বাস্থ্যসচেতন খাদ্যতালিকা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আর রোজকার খাবার তো ঠিকঠাক হওয়া চাই-ই।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই; আলুর চিপস; প্যাকেটজাত ভুট্টা; প্যাকেটসহ মাইক্রোওয়েভে তৈরি খই বা পপকর্ন; গরু, ছাগল, ভেড়া, শূকর ও অন্যান্য পশুর মাংস; ক্যালরিবিহীন কৃত্রিম চিনি (জিরো ক্যালরি চিনি); লবণসমৃদ্ধ হটডগ, সালামি, মিটলোফ ও সসেজ-জাতীয় খাবার এবং টিনজাত টমেটো এড়িয়ে চলা ভালো।

রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন মটরশুঁটি, পেঁয়াজপাতা, মিষ্টি আলু, শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যের মতো আঁশযুক্ত খাবার ও গ্রিন টি। সয়াবিন ও অন্য সয়া পণ্য, যেমন টফু খেতে পারেন। গরু বা ছাগলের দুধ ও দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাবার, যেমন পনির ও টক দই খেতে পারেন। বাদাম, মাশরুম ও সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন।

নারকেলের তেল, জলপাই তেল, তিসির তেল এবং রসুন ও হলুদ দিয়ে তৈরি করা খাবার খেতে পারেন।

চিকিৎসা নিতে দেরি নয়

নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার সময় যদি কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা কিংবা পরিবর্তন চোখে পড়ে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করবেন না। কোনো গোটা অনুভব করলে, স্তনে কোনো দাগ দেখা দিলে, স্তন লাল হয়ে গেলে, উষ্ণ অনুভব করলে, স্তন বা এর চারপাশে ফুসকুড়ি হলে, স্তনে ব্যথা হলে, স্তনের চামড়া কুঁচকে গেলে, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে, স্তনবৃন্ত থেকে কোনো তরল নিঃসৃত হলে—মোটকথা, স্তন বা স্তনবৃন্তের যেকোনো পরিবর্তন গুরুত্বসহকারে নিন। আপনজনের সঙ্গে কথা বলুন। চিকিৎসা নিন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।

প্রতিরোধের চেষ্টা সত্ত্বেও ক্যানসার যদি হয়েও যায়, নিজেকে দুর্ভাগা মনে করবেন না। বাংলাদেশে ক্যানসারের সুচিকিৎসা রয়েছে। তবে সময় থাকতে চিকিৎসা শুরু করাটা জরুরি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিশাল এক যাত্রা। এ যাত্রার শেষে ভালোবাসার মানুষগুলোর কাছে ফিরতে হলে যাত্রার শুরুটা হতে হবে ঠিকঠাক। তাই স্তনের যেকোনো সমস্যা হলে চিকিৎসা নিতে দ্বিধা করা চলবে না।

লেখক: ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক, রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিআরএইচ), মহাখালী, ঢাকা।