২০১৬ সালের বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও আঘাত জরিপ অনুযায়ী পড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি লাখে ৪৪ জন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশ বয়স্ক মানুষ শয্যাশায়ী হন। বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শে নিয়মিত কিছু ফিটনেস ব্যায়াম করা উচিত।

স্ট্রেচিং ব্যায়াম: বয়স্কদের গুরুত্বপূর্ণ মাংসপেশিগুলো শক্ত বা সংকুচিত হয়ে পড়ে। টানটান বা সংকুচিত মাংসপেশিগুলোকে প্রসারণ করতে এই ব্যায়াম খুবই কার্যকরী।

স্ট্রেনদেনিং ব্যায়াম: দুর্বল মাংসপেশিকে শক্তিশালী করতে এ ব্যায়ামে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়।

বোবাথ টেকনিক: বয়স্কদের স্নায়বিক দুর্বলতাসহ অন্য কারণে দেহের ভারসাম্য ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ব্যায়ামের মাধ্যমে বয়স্কদের ভারসাম্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ব্যালান্স ও কো-অর্ডিনেশন ব্যায়াম: বয়স্কদের ভারসাম্য ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেহের সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। এ ধরনের ব্যায়াম দেহের সমন্বয় ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উপকারী। তবে পিএনএফ ব্যায়াম স্নায়বিক কার্যকারিতা, মাংসপেশির ক্ষমতা ও দেহের ভারসাম্য বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকরী।

কার্ডিও রেসপিরেটরি ফিটনেস ব্যায়াম: স্ট্যাটিক সাইক্লিং, অ্যারোবিক ব্যায়াম যেমন হাঁটা, জগিং, আস্তে আস্তে দৌড়ানো, সাঁতার কাটাসহ অন্যান্য ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম বয়স্কদের ফিটনেসে কার্যকর।

এসব ব্যায়াম বয়স্কদের দেহের এনডোরফিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ভালো অনুভূতি, ভালো ঘুম ও মানসিক চাপ কমাতে খুব উপকারী।

এ ছাড়া বয়স্কদের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন করার জন্য একটা শারীরিক পরীক্ষা (টিইউজি) করা হয়। এ পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ মানে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক হতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, গেস্ট ফ্যাকাল্টি, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)