default-image

জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই সমাধান

  • সকালে বিছানা ছাড়ার আগে, অর্থাৎ বাসিমুখে ব্রাশ না করেই কিছু শুকনা খাবার চিবিয়ে নিতে হবে। টোস্ট, বিস্কুট, মুড়ি বা ভাজা চিড়ার কৌটা বিছানার পাশে নিয়ে ঘুমান। সকালে শুকনা খাবার চিবালে বমির প্রবণতা কমে।

  • টক বা ঝালজাতীয় খাবার কিংবা একটু ভিন্ন স্বাদের কোনো খাবার খেলে অনেকেই কিছুটা রুচি ফিরে পান।

  • শরীর বেশি খারাপ লাগলে জোর করে খেতে যাবেন না। বরং শুয়ে বিশ্রাম নিন।

  • সারা দিনে অল্প করে বারবার খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তরল খাবার খেতে হবে পর্যাপ্ত। বমি হলে অবশ্যই ওরস্যালাইন খাবেন। ওরস্যালাইনের প্যাকেট ঘরে না থাকলে গুড় বা চিনির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে স্যালাইন তৈরি করতে পারেন। লেবু, লবণ আর চিনি দিয়ে তৈরি পানীয়ও খেতে পারেন।

  • অতিরিক্ত তেল–মসলাযুক্ত খাবার, বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।

চাই ইতিবাচক ভাবনা

একটু-আধটু বমিভাব, মাথা ঘোরানো থাকবেই। মনে রাখবেন, গর্ভাবস্থায় এ সমস্যাগুলো স্বাভাবিক এবং সাময়িক। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তিন মাস পার হলেই এসব আর থাকে না। নতুন একটি অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরকে এটুকু সময় দিন। কারও কারও ক্ষেত্রে চার মাস সময় লাগতে পারে। একে ইতিবাচকভাবে নিন। ‘আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি’—এমনটা ভাববেন না। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। গর্ভাবস্থা কোনো অসুস্থতা নয়। তাই ধৈর্য ধরুন।

পরিবারের সমর্থনও জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে বমির জন্য মেক্লিজিন হাইড্রোক্লোরাইড ওষুধ সেবন করা যেতে পারে দুবেলা করে। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

যখন সতর্ক হবেন

অল্প কিছু ক্ষেত্রে একটু জটিলতা দেখা দিতে পারে। অত্যধিক বমির কারণে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, শরীরের লবণের স্বাভাবিক মাত্রার তারতম্য হতে পারে, প্রায় পুরো গর্ভকালজুড়েই বমির সমস্যা থেকে যেতে পারে। গর্ভবতী মা যা খাচ্ছেন, তাতেই বমি হয়ে গেলে, সারা দিনে অনেক বার বমি হলে, সবকিছুতেই গন্ধ লাগলে কিংবা রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। অত্যধিক বমির কারণে শরীরে লবণের মাত্রার তারতম্যও হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা ও স্যালাইন দেওয়া লাগতে পারে।

*ডা. লুবনা জাহান: কনসালট্যান্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন