শ্বেতী কোনো অভিশাপ নয়

প্রতীকী ছবি

শ্বেতী বা ধবল অন্যান্য চর্মরোগের মতোই একটি রোগ। এটি কোনো অভিশাপ নয়। এ রোগ নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করে। রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন থাকেন এবং কেউ কেউ বিষণ্নতায় ভোগেন; বিশেষ করে মেয়েদের এ রোগ হলে উদ্বেগ বেড়ে যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে শ্বেতী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

লক্ষণ

শরীরের যেকোনো স্থানের চামড়া ধবধবে সাদা, মসৃণ দেখায়। সেখানকার চুল সাদা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত আঘাত বা পুরোনো চর্মরোগ ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ইতিহাস থাকে না। উডস লাইট পরীক্ষা করে একজন চর্মরোগবিশেষজ্ঞ চকের মতো সাদা স্থান দেখতে পান। এসব লক্ষণ মিলে গেলে ধরে নেওয়া হয় এটা শ্বেতীরোগ (Vitiligo)।

কাদের এবং কেন হয়

শ্বেতী যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশি দেখা যায় ১০-৩০ বছর বয়সে। নারী–পুরুষ উভয়ের হতে পারে। এটি একটি অটো ইমিউন রোগ। জেনেটিক কারণও দায়ী হতে পারে। কারণ, ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়ের শ্বেতীরোগ থাকতে পারে।

ত্বকের নিচে মেলানোসাইট নামের কোষ থাকে, যা মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে। এ মেলানিন আমাদের ত্বকের রঙের জন্য দায়ী। শ্বেতীরোগীর ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে মেলানোসাইট থাকে না। ফলে মেলানিন তৈরি হয় না এবং আক্রান্ত স্থান সাদা দেখা যায়।

ধরন

আক্রান্ত স্থান ও ব্যাপ্তি অনুসারে শ্বেতী ছয় ধরনের। এর মধ্যে সেগমেন্টাল ধরনে একটি নির্দিষ্ট স্থান এবং অ্যাক্রোফেসিয়ালে হাত–পায়ের আঙুল, নাক, চোখ, ঠোঁট ইত্যাদি আক্রান্ত হয়। কিছু রোগ দেখতে শ্বেতীর মতো, অথচ সেগুলো শ্বেতী নয়, যেমন টিনিয়া ভারসকোলর (ছৈদ, ছুলি), টিরিয়াসিস এলবা (শিশু–কিশোরদের মুখমণ্ডল ও আশপাশে গুঁড়ি গুঁড়ি সাদা স্পট), লিউকোডারমা (কোনো চর্মরোগ, আঘাত, পুড়ে যাওয়া, প্রসাধনী বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের পর সাদা দেখানো), বয়স্কদের হাত, পা ও গায়ে কয়েকটি সাদা স্পট, মরফিয়া, সেকেন্ডারি সিফিলিস ইত্যাদি।

চিকিৎসা

২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ নিজে থেকে ভালো হয়ে যায়। সেগমেন্টাল ও অ্যাক্রোফেসিয়াল ধরনের শ্বেতীরোগে চিকিৎসা এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। তবে অন্যান্য ধরনের শ্বেতীরোগ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য, রোগ যাতে আর না বাড়ে ও আক্রান্ত অংশে চামড়ার স্বাভাবিক রং ফিরে আসে। ট্যাক্রোলিমাস, পাইমেক্রোলিমাস স্টেরয়েড ক্রিম ইত্যাদি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ফটোথেরাপি, বিশেষ করে পিইউভিএ থেরাপি দেওয়া হয়। আধুনিককালে বায়োলজিক ওষুধ, যেমন রাক্সোলিটিনিব ক্রিম ব্যবহারে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যাচ্ছে। সাইকোথেরাপির প্রয়োজনও হতে পারে।

শ্বেতী হলে উদ্বিগ্ন বা হতাশ হবেন না। ধৈর্যের সঙ্গে দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

  • ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, চর্ম ও যৌনরোগবিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকা