অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ কী

প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি আমাদের পাকস্থলীর পেছন দিকে পেটের ওপর ভাগে আড়াআড়িভাবে থাকে। এটির মূল কাজ দুটি। এক. বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন তৈরি করা। দুই. হজমের জন্য পাচক রস তৈরি করা। এর অর্থ প্যানক্রিয়াসে কোনো সমস্যা হলে আক্রান্ত রোগীর যেমন হজমে সমস্যা দেখা দেবে, ওজন কমতে থাকবে, তেমনি রক্তের শর্করা বিপাকক্রিয়ায়ও সমস্যা হবে।

অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। যখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসার পৌঁছায়, তখন রোগটি শনাক্ত করা যায়। তখন চিকিৎসা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণ

প্রধান লক্ষণগুলো হলো ক্লান্তিবোধ, ক্ষুধামান্দ্য, জন্ডিস, ওপরের পেটে ব্যথা, পিঠের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, বমি বমি ভাব, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।

ধূমপান, অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, অত্যধিক ওজন বৃদ্ধি এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ধরন

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের দুটি ধরন—

১. এক্সোক্রাইন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার: যেসব কোষ পাচক রস তৈরি করে, তা থেকে এটি সৃষ্টি হয়। প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ে এক্সোক্রাইন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হয়। এর আবার অনেক ধরন আছে। অ্যাডেনোকার্সিনোমা, যা কোষগুলোতে শুরু হয় এবং অগ্ন্যাশয়ের নালিগুলোকে বদ্ধ করে ফেলে। এ ধরনকে সাধারণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হিসেবে দেখা হয়। এ ছাড়া স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা, অ্যাডেনোকোয়ামাস কার্সিনোমা ও কলয়েড কার্সিনোমাও রয়েছে।

২. এন্ডোক্রাইন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার: এটি সেই অংশে শুরু হয়, যেখানে ইনসুলিন ও অন্যান্য হরমোন তৈরি হয়।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার প্রথম পর্যায়ে অগ্ন্যাশয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্যানসার অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে টিউমার আকারে ২ থেকে ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। তৃতীয় পর্যায়ে টিউমারটি আকারে ৪ সেন্টিমিটারের বেশি এবং ক্যানসারটি কাছাকাছি লিম্ফ নোডগুলোয় (লসিকা গ্রন্থি) ছড়িয়ে পড়তে পারে। চতুর্থ পর্যায়ে ক্যানসারটি কাছের রক্তনালি বা স্নায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চম পর্যায়ে ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা

পর্যায় ও গ্রেডের ওপর নির্ভর করে অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা অস্ত্রোপচার। এ ক্ষেত্রে ক্যানসার পুরোপুরি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, সে ক্ষেত্রে ক্যানসার নির্মূল অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন চিকিৎসক প্যালিয়েটিভ (মানসিক যন্ত্রণা লাঘব) অপারেশন করেন। আর পঞ্চম পর্যায়ে গিয়ে যদি রোগ শনাক্ত হয়, তবে ক্যানসারের কারণে যে সমস্যা হয়, শুধু সেগুলো নিরাময়ের চিকিৎসা করা হয়। সে ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, ওষুধ ও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়।

  • ডা. মো. সেতাবুর রহমান, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, ল্যাবএইড ক্যানসার সুপার স্পেশালিটি সেন্টার, ঢাকা