দাঁত হারানোর ক্ষতি অপরিসীম। দাঁত ফেলে দিলে আশপাশের দাঁতগুলো ফাঁকা জায়গার দিকে হেলে পড়ে, ফলে খাবার চিবুতে সমস্যা হয় এবং মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য, স্পষ্ট উচ্চারণ বা খাদ্য ভেঙে হজমের উপযোগী করতে ব্যাঘাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম দাঁত লাগাতে গেলে খরচ এবং জটিলতা দুই-ই বেশি। তাই এখন প্রাকৃতিক দাঁতকে যথাসম্ভব রক্ষা করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশি।
এন্ডোডন্টিক চিকিৎসা বা বহুল পরিচিত ‘রুট ক্যানেল থেরাপি’ এখানে কার্যকর। দাঁতের ভেতরে রক্তনালি এবং স্নায়ুর নরম অংশ বা ডেন্টাল পাল্প আক্রান্ত হলে দাঁতকে না ফেলে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টাই হলো এন্ডোডন্টিক চিকিৎসা। এর মধ্যে রুট ক্যানেল থেরাপিসহ ভাইটাল পাল্প থেরাপি, এন্ডোডন্টিক সার্জারি, এন্ডোডন্টিক রিট্রিটমেন্ট, পাল্প রেজেনারেশন অন্তর্ভুক্ত।
কখন এই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়
যখন দাঁতের পাল্প কোনো কারণে সংক্রমিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লক্ষণগুলো হলো—
দাঁতে তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, যা অনেক সময় কান বা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।
গরম বা ঠান্ডা খাবার বা পানীয় খেলে দাঁতে তীব্র শিরশিরানি দেখা দেয়।
খাবার চিবানোর সময় বা দাঁতে চাপ লাগলে ব্যথা হয়।
কীভাবে করা হয় রুট ক্যানেল
প্রধানত কয়েকটি ধাপে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়।
১. প্রথমে আক্রান্ত দাঁত এবং তার চারপাশের অংশকে স্থানীয়ভাবে অবশ করে নেওয়া হয়।
২. দাঁতের উপরিভাগে একটি সূক্ষ্ম ছিদ্র করে ভেতরের সংক্রামিত, মৃত বা পচে যাওয়া পাল্প/স্নায়ু সম্পূর্ণ বের করে আনা হয়।
৩. ক্যানেল সিলিং বা ক্যানেল সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার পর সেখানে বিশেষ একধরনের বায়োকম্প্যাটিবল উপাদান দিয়ে নালীটি স্থায়ীভাবে সিল বা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে পুনরায় সংক্রমণ হতে না পারে।
৪. দাঁতের উপরের ছিদ্রটি স্থায়ী ফিলিং দিয়ে বন্ধ করা হয়।
চিকিৎসা পরবর্তী দিকনির্দেশনা
রুট ক্যানেল করার পর দাঁত দীর্ঘদিন ভালো রাখতে রোগীকে নিয়ম মেনে চলতে হয়:
চিকিৎসা চলাকালীন বা ক্যাপ পরানোর আগপর্যন্ত ওই দাঁত দিয়ে শক্ত কোনো খাবার চিবানো যাবে না।
স্থায়ী ক্যাপ বা ক্রাউন বসানোর পর সাধারণ দাঁতের মতোই নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ এবং ফ্লস করতে হবে।
ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ, রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড, কলাবাগান