পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

একজন পুরুষের পুরুষালি বৈশিষ্ট্য গঠনে টেস্টোস্টেরনের কোনো বিকল্প নেই। এই হরমোন শুধু দাম্পত্য জীবনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও এর স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকা জরুরি। নানা কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। তখন শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে, আর কেনই–বা কমে এই হরমোন?

একজন পুরুষের পুরুষালি বৈশিষ্ট্য গঠনে টেস্টোস্টেরনের কোনো বিকল্প নেইছবি: পেক্সেলস

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে

  • টেস্টোস্টেরন কমে গেলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি লাগতে পারে। শারীরিক শক্তি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে বলে মনে হতে পারে। এ রকম হলে নিজের ঘুম, সুষম খাবার ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করুন। তারপরও উপসর্গ রয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • পেশির পুরুত্ব কমে যেতে পারে। পেশির শক্তিও কমে যেতে পারে।

  • হাড়ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। জমতে পারে মেদ। শরীরের বিভিন্ন জায়গার লোম পড়ে যেতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। রাতে অস্থির লাগতে পারে।

  • দেখা দিতে পারে বিষণ্নতা। যা কিছু ভালো লাগত, তার কিছুই ভালো না লাগা বিষণ্নতার উপসর্গ। টেস্টোস্টেরনের অভাবে দাম্পত্য জীবনে স্বাভাবিক আগ্রহ হারাতে পারেন একজন পুরুষ। দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোযোগ দিতে সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি। হতে পারে স্মৃতিভ্রম।

কেন কমে এই হরমোন

  • বয়সের সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমবে। তবে জীবনধারা স্বাস্থ্যকর রাখতে পারলে অবশ্য খুব সহজেই এ হরমোনের মাত্রা অনেক বেশি কমে যায় না। অবশ্য কিছু রোগের কারণে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

  • স্থূলতা ও ডায়াবেটিস টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। শুক্রাশয়ে আঘাত লাগলে বা জীবাণুর সংক্রমণ হলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। আর হরমোনটি মস্তিষ্কের যে অংশ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় (হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্রন্থি), সেখানে টিউমার, প্রদাহ বা কোনো সংক্রমণের প্রভাব পড়ার কারণেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে।

সুস্থ থাকতে

একজন সুস্থ পুরুষের টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। বিশেষ করে ওজন তোলার মতো শক্তিভিত্তিক ব্যায়াম উপকারী। পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সুষম খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা অত্যন্ত কম খাওয়ার অভ্যাস—দুটিই ক্ষতিকর।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল রপ্ত করা প্রয়োজন আর পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিসফেনল-এ ও প্যারাবেনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে। প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন।

মনে রাখতে হবে, অনেক প্রসাধনসামগ্রীতেও প্যারাবেন থাকতে পারে। এ ছাড়া মদ্যপান টেস্টোস্টেরনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যদি টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি এই স্বাস্থ্যকর জীবনধারার অভ্যাসগুলো মেনে চলুন।

সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, ওয়েবএমডি ও হেলথলাইন

আরও পড়ুন