ওষুধ খাব কত দিন

কোলেস্টরেল কমানোর ওষুধ খেয়ে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলেই সব ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। চিকিৎসক আপনার কোলেস্টরেল বৃদ্ধির কারণ এবং আপনার অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ওষুধের কারণে কোলেস্টেরল বেড়ে থাকলে সেটি বন্ধ করে দিলে অনেক সময় কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় চলে আসে, জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে অনেকেরই, কিন্তু বংশগত কারণে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে ওষুধ খেয়ে সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা ছাড়া উপায় থাকে না। আবার ডায়াবেটিসের রোগীর কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল দুটিই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় রোগীকে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়ে গেলে সারা জীবন এই ওষুধ খাওয়া বাঞ্ছনীয়।

জেনে রাখা ভালো

  • কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ খাওয়ার ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, শরীরের বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, মনোযোগের ঘাটতি। কারও কারও লিভারের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। লিভারের সুস্থতা নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো হলে এ প্রভাব ধরা পড়ে। এ রকম কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দেবেন। রোগীর সার্বিক শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।

  • ৭০ বছর পেরিয়ে গেলে এ ধরনের ওষুধের ডোজ কমিয়ে দেওয়া হয় কিংবা একেবারে বন্ধই করে দেওয়া হয়।

*ডা. মো. মতলেবুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল