পান-জর্দা, ধূমপান, মদ পান অধিকাংশ মুখের রোগের কারণ। অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং মিষ্টিজাতীয় খাবারও মুখের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব কারণে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই চারটি অসংক্রামক ব্যাধির সঙ্গে মুখের অসুখের সম্পর্ক থাকে বলে অনেকেই মনে করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মুখ বা দাঁতের রোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। ধনী দেশগুলোর তুলনায় এই সমস্যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বেশি। আবার একই দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সমস্যা সামঞ্জস্যহীনভাবে বেশি। আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে মুখের অসুখের প্রকোপ হ্রাস-বৃদ্ধির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। আয় উপার্জন কম হলে, শিক্ষার স্তর নিচের দিকে হলে সেই জনগোষ্ঠীতে এই প্রকোপ বেশি থাকে। এই সমস্যা শুরু হয় শিশু বয়সে, চলতে থাকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত।

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার স্কুলশিক্ষার্থীর ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য খারাপ। ৫৯ শতাংশের মুখের স্বাস্থ্য মোটামুটি। বাকি ৩১ শতাংশের মুখের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো।

১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই গবেষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষকেরা। ওই একই বিভাগের গবেষকেরা ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার বয়স্ক মানুষের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি গবেষণা করেছিলেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ছিল ৬৭ বছর। ওই গবেষণায় দেখা যায়, বয়স্কদের ৩০ শতাংশের মুখের স্বাস্থ্য খারাপ।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মুখের অসুখের প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সুষম খাবার খেতে হবে, জোর দিতে হবে ফল ও সবজির ওপর। খাবারে সুগারের পরিমাণ যেন কম মাত্রায় থাকে। ধূমপান ও চিবিয়ে খাওয়া তামাক (পান-জর্দা-সুপারি) খাওয়া এবং মদ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। খেলাধুলা ও ভ্রমণের সময় মুখে বা দাঁতে যেন আঘাত না লাগে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মুখের স্বাস্থ্য অনেকাংশে নির্ভর করে দাঁতের স্বাস্থ্যের ওপর। মুখের স্বাস্থ্যের আলোচনায় দাঁতের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে দেখা যায়। দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে ফ্লোরাইড বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ফ্লোরাইডের উৎস হতে পারে পানি, লবণ, দুধ ও টুথপেস্ট। সংস্থাটি ফ্লোরাইড মিশ্রিত টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দুবার দাঁত পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে দাঁত পরিষ্কার করা বা দাঁত মাজার বিষয়ে মানুষের অভ্যাসের ভিন্নতা আছে। রাজধানীর সরকারি ঢাকা ডেন্টাল কলেজের একদল গবেষক ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। গবেষকেরা দেখেছেন, ৭৩ শতাংশ মানুষ দিনে একবার দাঁত ব্রাশ করে। দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করে ২৭ শতাংশ মানুষ।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা একটি ভালো অভ্যাস। চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্রাশ করা ছাড়াও দাঁতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা খাদ্যকণা নিয়মিত বের করা দরকার। নিয়মিতভাবে জিহ্বা পরিষ্কার করারও তাঁরা পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেন, মুখের ভেতর যেন শুকিয়ে না যায়। একই ব্রাশ দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেন তাঁরা। তাঁদের পরামর্শ মেনে চললে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, নিশ্বাস সতেজ হবে।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে, মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এসব না করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের ক্ষয়সহ নানা রোগ দেখা দেয়। এর সঙ্গে পান-জর্দা খেলে বা ধূমপান করলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন