শিশুর পেটব্যথা হলেই অভিভাবকেরা ভাবেন, এটা গ্যাস থেকে এবং গ্যাসের ওষুধ দিলেই সমস্যা মিটে যাবে। আসলে পেটব্যথা কোনো রোগ নয়, সংকেতমাত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কারণ সাধারণ হলেও কখনো এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিস, অন্ত্রের জটিলতা, মূত্রনালির সংক্রমণ বা অন্য জরুরি সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
শিশুর পেটে ব্যথা হয় কেন
কোষ্ঠকাঠিন্য: শিশুর পেটব্যথার অন্যতম কারণ। শক্ত পায়খানা, কয়েক দিন পরপর মলত্যাগ, মলত্যাগের সময় ব্যথা বা পায়খানা চেপে রাখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
গ্যাস ও পেট ফাঁপা: দ্রুত খাওয়া, খাওয়ার সময় বাতাস গিলে ফেলা, নির্দিষ্ট কিছু খাবারে অ্যালার্জি বা অন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস জমার কারণে হতে পারে।
পেটে সংক্রমণ: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে পেটব্যথার সঙ্গে বমি, ডায়রিয়া ও জ্বর দেখা দিতে পারে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস: ব্যথা নাভির চারপাশে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ডান দিকের নিচের পেটে সরে আসে। হাঁটাচলা, লাফানো বা নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়তে পারে।
মূত্রনালির সংক্রমণ: পেটব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব বা জ্বর থাকতে পারে।
কৃমি: কিছু শিশুর ক্ষেত্রে বারবার পেটব্যথা, ক্ষুধার পরিবর্তন বা পেটে অস্বস্তির কারণ হতে পারে কৃমি।
খাবারে অ্যালার্জি: দুধ বা নির্দিষ্ট খাবার খেলে পেটব্যথা, ফাঁপা, ডায়রিয়া বা বমি হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন
পেটব্যথা তীব্র বা ক্রমেই বাড়তে থাকা।
ব্যথা টানা থাকা বা বারবার ফিরে আসা।
ডান দিকের নিচের পেটে বেশি ব্যথা। পেট ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া।
সবুজ রঙের বমি, পায়খানায় রক্ত।
উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা।
শিশুর নিস্তেজ, ফ্যাকাশে বা ঝিমিয়ে পড়া, পানি পান করতে না পারা বা বারবার বমি।
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
শিশুর অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া।
অভিভাবকদের করণীয়
শিশুকে বিশ্রাম দিন। পর্যাপ্ত তরল পান করান। বয়স উপযোগী স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যান, অযথা না খাইয়ে রাখবেন না। কোষ্ঠকাঠিন্যের ইতিহাস আছে কি না, লক্ষ করুন।