গরমে ডাবের পানি খেলে যেসব উপকার পাবেন
প্রচণ্ড গরমে ডাবের পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায়, তা নয়, শরীরের হয় অনেক উপকার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ঢাকার বারিধারার ফরাজী হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ
প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। ডাবের পানিতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং ইলেকট্রোলাইট শরীরকে সজীব করে এবং ক্লান্তি দূর করে নিমিষেই চনমনে করে তোলে।
অতিরিক্ত গরমে পানি স্বল্পতার কারণে অনেকের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইনফেকশন দেখা দেয়। ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে মূত্রনালি পরিষ্কার রাখে।
গরমে ঘামের সঙ্গে খনিজ বেরিয়ে যাওয়ায় অনেক সময় রক্তচাপের তারতম্য ঘটে। ডাবের পানিতে থাকা পটাশিয়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
ডাবের পানিতে পাঁচটি প্রধান ইলেকট্রোলাইট থাকে—পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, দীর্ঘক্ষণ ব্যায়ামের পর ডাবের পানি শরীরের তরল ভারসাম্য দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সক্ষম এবং এটি পাকস্থলীতে কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি করে না।
গরমে রোদে পোড়াভাব বা তেলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া রোধ করতে ডাবের পানি জাদুর মতো কাজ করে। এটি খেলে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে, ফলে রোদেও ত্বকের সতেজতা বজায় থাকে।
নিয়মিত ডাবের পানি খেলে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বা ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে যায়। এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ডাবের পানিতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তনালিগুলোকে শিথিল করে। ফলে এটি উচ্চরক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
সতর্কতা
ডাবের পানিতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকলেও সুগার থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। যাঁদের রক্তে পটাশিয়াম বেশি বা যাঁরা গুরুতর কিডনি রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য ডাবের পানি খাওয়া আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।