দেহের দুটো অংশের সমস্যা থেকে মূলত মাথা ঘোরার উৎপত্তি।

এক. মস্তিষ্কের কাণ্ড অথবা লঘু মস্তিষ্ক। এই অংশ আমাদের ভারসাম্য বা ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণ করে। আঘাত অথবা যেকোনো রোগ যেমন পক্ষাঘাত বা স্ট্রোক, সংক্রমণ, টিউমার, ডিমায়েলিনাসন, ভিটামিন বি ১২-র ঘাটতি, অ্যালকোহল, ভারী ধাতু, ওষুধ যেমন ফেনিটয়েন, লিথিয়াম, এমনকি থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতির কারণে হতে পারে মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ।

দুই. ভেস্টিবুলার স্নায়ু অথবা কানের ভেস্টিবুলার কক্ষ/সিস্টেম। কানের সংক্রমণ, কানের পর্দায় পানি জমা বা মিনিয়ারস ডিজিজ, কানের স্নায়ুর প্রদাহ, কানে কম শোনা ইত্যাদি কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।

তবে সাধারণ পরিচিত মাথাঘোরা মূলত বয়সজনিত কানের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে। এ ছাড়া হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ নিম্নগামী হয়েও কারও কারও মাথা ঘুরে ওঠে। এটাও বয়স্ক ব্যক্তিদেরই বেশি হয়। রক্তে লবণ কমে গেলে, রক্তচাপ বেশি বা কম হলে, ডাইউরেটিক জাতীয় ওষুধ সেবন করলে হতে পারে।

কখন চিকিৎসক দেখাবেন

মাথা ঘোরার সঙ্গে যদি নিচের উপসর্গগুলোর কোনো একটা থাকে, তবে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

১. মাথা ঘোরার সঙ্গে তীব্র বমি।

২. শরীরের কোনো এক অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়া অথবা মুখ বেঁকে যাওয়া।

৩. খাবার গিলতে না পারা অথবা খাবার খাওয়ার সময় নাক দিয়ে খাবার অথবা পানি বের হয়ে আসা।

৪. হাঁটার সময় বারবার পড়ে যাওয়া।

৫. কানে ঝিঁঝি/শোঁ শোঁ শোনা।

৬. কান থেকে পুঁজ পড়া।

*ডা. তাহমিনা রহমান: মেডিসিন বিশেষজ্ঞ