বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশার আইনি সুরক্ষা চান ফিজিওথেরাপিস্টরা

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা।’

হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের পর রোগীর হাঁটাচলা, ভারসাম্য ও শক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও ফিজিওথেরাপিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনছবি: এহসানুর রহমান
প্রতিবছর প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ হৃদ্‌রোগে মারা যান, যা বৈশ্বিক মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি
ছবি: রয়র্টাস

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। ১৯৫১ সালের এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা। ফিজিওথেরাপিস্টদের গুরুত্ব ও অবদানকে জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে সংস্থাটি দিনটি পালন করে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ হৃদ্‌রোগে মারা যান, যা বৈশ্বিক মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি। এসব মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশের বেশি বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় হয়ে থাকে।

এসব বিবেচনায় ২০২৬ সালের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা’।

এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা বলতে চাইছে, আঘাত-পরবর্তী পুনর্বাসনেই শুধু নয়, হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের পর রোগীর হাঁটাচলা, ভারসাম্য ও শক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও ফিজিওথেরাপিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা, বার্ধক্যজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সারা বিশ্বে চিকিৎসাব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠছে।

তবে এই খাত এখনো কিছু দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে। ২০১৮ সালে ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল’ গঠিত হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর নয়। ফলে ‘ফিজিওথেরাপিস্ট’ পদবিটি আইনিভাবে সুরক্ষিত নয়, যার সুযোগে অনেকেই নিজেকে ফিজিওথেরাপিস্ট পরিচয় দিয়ে সেবা দিচ্ছেন। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়ছে।

রোগীর শারীরিক সমস্যা দূর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা অপরিসীম
ছবি: এহসানুর রহমান

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন’ কিছু দাবি ও সংকল্প তুলে ধরেছে:

  • ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল’কে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করে তোলা, যাতে তা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের আদলে একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক পরিষদ হিসেবে গড়ে ওঠে, যা ফিজিওথেরাপিস্টদের নিবন্ধন, যোগ্যতা যাচাই ও পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করবে।

  • ফিজিওথেরাপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফিজিওথেরাপিস্টদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোয় যথাযথ পদমর্যাদায় নিয়োগের ব্যবস্থা।

  • প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণ, যাতে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভোগা রোগীরা সময়মতো পুনর্বাসন সেবা পান।

  • দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠানে সেমিনার, বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্প, র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে শারীরিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং ফিজিওথেরাপি পেশার আইনি স্বীকৃতির দাবি তুলে ধরা হয়।

তানজির-উজ-জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি), সিআরপি, মিরপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন