রমজান মাসে হয়, এমন কিছু কমন শারীরিক সমস্যা ও প্রতিকার জেনে নিন

রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের পরিবর্তনের কারণে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। একটু সতর্ক থাকলে তা এড়ানো সম্ভব।

রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের পরিবর্তনের কারণে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ছবি: ফ্রিপিক

গলা-বুক জ্বলা ও অ্যাসিডিটি

পেটে গ্যাস, গলা-বুক জ্বলা, ঢেকুর ওঠা ও পেট ফাঁপা রমজানে প্রায় হয়ে থাকে। সারা দিন খালি পেটে থেকে হঠাৎ অনেক ভারী খাবার খাওয়ায় এমনটা হয়। এ সমস্যা কাটাতে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা–পোড়া, তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প করে ভাগ করে খেতে হবে। ইফতারে একসঙ্গে অনেক পানি পান না করে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে পানি পান করবেন।

সাহ্‌রি খেয়ে শুয়ে পড়লে গলা জ্বলার সমস্যা হয়। তাই সাহ্‌রি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বসে বিশ্রাম নিয়ে তারপর ঘুমাতে পারেন।

আরও পড়ুন

কোষ্ঠকাঠিন্য

রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্য আরেকটি পরিচিত সমস্যা। শাকসবজি কম খাওয়ায় এটি হয়। তাই ইফতারে সব ভাজা খাবার না রেখে সবজি সেদ্ধ বা গ্রিল সবজি, প্রচুর ফল রাখুন।

সালাদ ও টক দই খেতে পারেন। ফলের রস বা জুসের চেয়ে গোটা ফলে আঁশ বেশি থাকে। সাহ্‌রিতে অনেকে শুধু মাছ–মাংস খেয়ে থাকেন, এটাও ভালো নয়। আঁশযুক্ত সবজি অবশ্যই রাখবেন। আর প্রচুর পানি পান করবেন।

বদহজম

বদহজম, ডায়রিয়া, আমাশয়জাতীয় সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। এর মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ। বাইরের খোলা খাবার বা কেনা ইফতারি যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাবেন। ইফতারি স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন উপায়ে প্রস্তুত করতে হবে।

যদি বাইরে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখুন। পাতলা পায়খানা বা বমি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে। তাই ইফতারের পর স্যালাইন খেতে হতে পারে।

আরও পড়ুন

প্রস্রাবের সমস্যা

কারও কারও পানিশূন্যতার কারণে প্রস্রাবে জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে। এ জন্য ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত ধাপে ধাপে দুই-আড়াই লিটার পানি পান করুন।

ডিহাইড্রেশন দূর করতে কোমল পানীয় বা অন্যান্য তরলের চেয়ে পানি সবচেয়ে কার্যকর। চাইলে ডাবের পানি, বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে পারেন।

আরেকটি সমস্যা রাতে প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হওয়া। তাই একসঙ্গে বেশি পানি পান করবেন না।

ক্লান্তি ও অবসাদ

রমজানে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া এই ক্লান্তি অবসাদের মূল কারণ। তাই ইফতার ও তারাবিহর পর একটু আগে ঘুমাতে যাওয়া উচিত, যাতে ঘুমের ঘাটতি না হয়।

আবার সাহ্‌রিতে ওঠার পর সকালে খানিকটা ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। ঘুমের ছন্দ এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কারণে প্রথম দিকে একটু সমস্যা হয়, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে ক্লান্তি হবে না। আর দরকার যথেষ্ট পানি পান করা।

আরও পড়ুন