যে অসুখে পরীমনির মাথা থেকে গোছা গোছা চুল পড়েছে
নানান কারণেই মানুষের অতিরিক্ত চুল পড়ে। গোছা গোছা চুল পড়তে পড়তে দেখা যায় কারও মাথার কোনো বিশেষ অংশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এমনই এক মন খারাপ করা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে। সম্প্রতি রুম্মান রশীদ খানের পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি কাটিয়ে উঠেছেন সেই সমস্যা।
ঘটনাটা করোনার সময়কার। জীবন তখন এমনিতেই বড্ড কঠিন। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাননি পরীমনি। তখন মাথার প্রায় অর্ধেক অংশের চুল পড়ে যায়। ভাবা যায়! শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছিলেন, তবে সেটিও ছিল বিরাট এক ধৈর্যের পরীক্ষা। সমস্যাটি পুরো সারতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। চিকিৎসা শুরুর তিন-চার মাসের মধ্যে অবশ্য ফলাফল পেতে শুরু করেছিলেন।
স্বাভাবিকভাবে রোজই আমাদের কিছু চুল পড়ে। তবে মাথার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা থেকে গোছা গোছা চুল উঠে আসাটা স্বাভাবিক নয়। কেন হয় এই গোছা গোছা চুল পড়ার সমস্যা? এ প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছিলাম। বিস্তারিত জানালেন ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আফজালুল করিম।
চুল পড়ার কারণ
সাধারণভাবে বলা যায়, চুল পড়ার তিন রকম কারণ থাকে। একটি হলো জিনগত। এ ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর চুল পড়তে শুরু করে। জিনগত কারণে পুরুষের ক্ষেত্রে মাথার কিছু অংশের চুল পুরোপুরি পড়ে যায়। অর্থাৎ টাক পড়ে যায়। জিনগত কারণে নারীরও চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। জিনগত কারণে চুল পড়ে গেলে প্রাকৃতিকভাবে সেখানে আর নতুন চুল গজানো সম্ভব নয়।
চুল পড়ার আরেক কারণ পুষ্টিহীনতা, মারাত্মক রক্তশূন্যতা কিংবা প্রচণ্ড জ্বরের মতো বিষয়। তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো জায়গার চুল গোছা গোছা হয়ে পড়তে থাকে না, পুরো মাথার চুলের ঘনত্বই কমতে থাকে। যে কারণে চুল পড়ছে, ওই সমস্যার সমাধান হয়ে গেলেই আবার আগের মতো চুল গজায়।
তবে তৃতীয় যে ধরনের কারণে চুল পড়ে, সেটি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে চুল পড়ার সমস্যাটির চিকিৎসা করাতে হয়। এ ক্ষেত্রে গোছা গোছা চুল পড়ে গিয়ে মাথার নির্দিষ্ট কিছু অংশ ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। সমস্যাটি ছত্রাক সংক্রমণে হতে পারে কিংবা এটি হতে পারে অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা নামক রোগে। যেকোনো বয়সী নারী বা পুরুষের এমন সমস্যা হতে পারে।
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা কী
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা একধরনের অটোইমিউন রোগ। এ ধরনের রোগে দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিজের দেহের কিছু কোষের বিরুদ্ধেই কাজ করতে শুরু করে। আক্রমণ করে বসে নিজের দেহের কিছু কোষকেই।
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা রোগটি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। অনেকে একে টাক পোকা বলে থাকেন। তবে এর সঙ্গে কোনো পোকা বা জীবাণুর সংশ্লিষ্টতা নেই।
ছত্রাক সংক্রমণ নাকি অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা
ছত্রাক সংক্রমণ ও অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা—দুই ক্ষেত্রেই গোছা গোছা চুল পড়ে মাথার নির্দিষ্ট অংশ ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। তবে উপসর্গে কিছুটা পার্থক্য থাকে। ছত্রাক সংক্রমণে গোছা গোছা চুল পড়লেও মাথার ওই অংশ পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায় না, কিছু চুল রয়ে যায়। তবে জায়গাটা বেশ চুলকায়। ছত্রাক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যদের মধ্যেও।
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে আবার চুল পড়ে যাওয়ার কারণে ওই নির্দিষ্ট অংশ একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চুলকানি থাকে না। অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা ছোঁয়াচে রোগ নয়।
কী করবেন
গোছা গোছা চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ছত্রাক সংক্রমণ কিংবা অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা, যে কারণেই চুল পড়ুক না কেন, চিকিৎসায় তা পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসক আপনার অবস্থা বুঝে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। কারণ না জেনে নিজে থেকে যেকোনো চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।