তামাকপণ্য ও পরোক্ষ ধূমপানে নারী-শিশুর যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি
ধূমপান ও তামাকের ব্যবহারে ক্ষতির শিকার শুধু পুরুষেরা নন, নারীরাও হন। সেই সঙ্গে গণপরিবহনে কিংবা প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে নারী, শিশু আর বয়স্ক মানুষেরা পরোক্ষ ধূমপানের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। এ সংখ্যাটাও কম নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এর ফলে নারীদের হৃদ্রোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দেখা দেয়। শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
তামাকপণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বাংলাদেশে অনেক নারীর পান, সুপারি, জর্দা, গুল, সাদা পাতা, খইনিসহ নানা তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের অভ্যাস রয়েছে। এসব ধোঁয়াহীন তামাকজাত পণ্য নারীদের মুখগহ্বরের ক্যানসার, দাঁত ও মাড়ির রোগ, হৃদ্রোগ, গর্ভকালীন জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ধোঁয়াহীন তামাক সেবন করেন, যা পুরুষদের তুলনায় বেশি। ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক নারী তামাকজনিত বিভিন্ন রোগ ও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। বিশেষ করে সন্তানসম্ভবা নারীদের তামাক ব্যবহার মাতৃস্বাস্থ্য আর নবজাতকের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পরোক্ষ ধূমপানে স্বাস্থ্যঝুঁকি
যেসব নারী নিজেরা ধূমপান করেন না, তাঁরা নিজেদের ঘরে নিরাপদ নন। সেখানে তাঁরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হতে পারেন। পরিবারের কোনো সদস্য ধূমপান করলে একই ঘরে অবস্থানকারী অন্য সদস্যরাও ক্ষতিকর তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। পরোক্ষ ধূমপানে সন্তানসম্ভবা নারী ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এতে বিকলাঙ্গ শিশু প্রসবের ঝুঁকি বাড়ে।
পরোক্ষ ধূমপানে শিশুদের নিউমোনিয়া, হাঁপানি, কানের সংক্রমণ ও আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। সন্তানসম্ভবা নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং প্রসবকালীন জটিলতার শঙ্কা বাড়ে।
সন্তানসম্ভবা মায়ের ধূমপান ও তামাকপণ্য ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে সেটা সেই মা ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নির্ধারিত সময়ের আগে সন্তান প্রসব ও কম ওজনের শিশুর জন্মের আশঙ্কা বেড়ে যায়। মায়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ভ্রূণের রক্ত সঞ্চালন সীমিত করে। এর ফলে শিশুর ঠোঁট কাটা বা তালু কাটার মতো জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
ড. অরূপ রতন চৌধুরী, ভিজিটিং অধ্যাপক, বারডেম ডেন্টাল বিভাগ