অন্তঃসত্ত্বা নারীর নিরাপদ ঈদযাত্রায় যা করতে হবে

পানি ভাঙা বিষয়ে প্রত্যেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর সতর্ক থাকা জরুরিছবি: পেক্সেলস

ঈদ আমাদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসবের একটি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যান বা দূরে ভ্রমণে বের হন। কিন্তু একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য দীর্ঘ ভ্রমণ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি মা ও গর্ভের শিশুর নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব প্রয়োজন। কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ঈদযাত্রা অনেকটাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব।

ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

গর্ভাবস্থায় কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষত যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তস্বল্পতা বা পূর্বে গর্ভপাতের ইতিহাস থাকে, তবে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ভ্রমণ নিরাপদ কি না ও কত সময়ের ভ্রমণ করা উচিত, সে পরামর্শ দেবেন চিকিৎসক।

গর্ভাবস্থার সময়কাল বিবেচনা করুন

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস ও শেষের এক মাস ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। এই সময়ে গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (চতুর্থ থেকে সপ্তম মাস) ভ্রমণের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়, যদি অন্য কোনো জটিলতা না থাকে।

 

স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ যানবাহন নির্বাচন

ঈদে সড়কে প্রচণ্ড ভিড় ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই সম্ভব হলে আরামদায়ক ও কম ঝাঁকুনিযুক্ত যানবাহন নির্বাচন করা ভালো। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার পরিবর্তে মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং পায়ে ফোলা বা ব্যথা কম হয়।

‘সিটবেল্ট’ ব্যবহারে সচেতনতা

গাড়িতে ভ্রমণের সময় সিটবেল্ট ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি এমনভাবে পরতে হবে, যাতে বেল্টটি পেটের ওপর চাপ না দেয়। সাধারণত বেল্টের নিচের অংশটি পেটের নিচ দিয়ে ও ওপরের অংশটি বুকের পাশ দিয়ে পরা নিরাপদ।

প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নথিপত্র সঙ্গে রাখা

ভ্রমণের সময় নিয়মিত খাওয়ার ওষুধ, প্রেসক্রিপশন ও গর্ভাবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট সঙ্গে রাখুন। জরুরি অবস্থায় কাছাকাছি কোথায় হাসপাতাল আছে, সেই তথ্য জেনে রাখুন।

খাবার ও পানীয়র বিষয়ে সতর্কতা

ভ্রমণে বাইরে অনিরাপদ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিষ্কার পানি পান করা এবং হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা উচিত নয়, কারণ এতে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা হতে পারে। অনেক লোকের ভিড়ে সংক্রমণ সহজে ছড়ায়। তাই মাস্ক পরা উচিত।