কারা ঝুঁকিতে

  • যেসব নবজাতক অকালে বা স্বল্প ওজন নিয়ে জন্ম নেয়, যাদের জন্মের পর শ্বাস নিতে দেরি হয় বা মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস থাকে, তাদের ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে খিঁচুনি হতে পারে।

  • শিশু যদি জন্মগতভাবে প্যারাথাইরয়েড হরমোন বা ম্যাগনেশিয়ামের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে নবজাতক বা অল্প বয়সী শিশুর ক্যালসিয়ামের অভাবে খিঁচুনি বা মাংসপেশির কম্পন হতে পারে।

  • গর্ভাবস্থায় মা যদি অতিমাত্রায় ভিটামিন ডির স্বল্পতায় ভোগেন বা শিশু জন্মের পর থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি না পায়, সে ক্ষেত্রে শিশুর ক্যালসিয়ামের অভাবে খিঁচুনি হতে পারে। শিশু রিকেটস রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে বা রিকেটস রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

  • অল্প বয়সী শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ালে বা কিডনির সমস্যার কারণে শরীরে ফসফেট বেড়ে গেলে ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দিতে পারে।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ

  • মাংসপেশির কম্পন/টেটানি বা হাত বেঁকে আসা ও খিঁচুনি। মাংসপেশির দুর্বলতা, পেশিতে টান অনুভূত হওয়া। শ্বাসযন্ত্রের স্পাসম বা খিঁচুনি।

  • মানসিক অবস্থার অবনতি, মনোযোগ কমে যাওয়া। চোখ ও মস্তিষ্কের স্নায়বিক সমস্যা।

  • দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনে সমস্যা ও হার্ট ফেলিউর। অস্থির সমস্যা ও রিকেটস ইত্যাদি।

প্রতিরোধ

  • দুধ ও দুধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের বড় উৎস, তবে একমাত্র উৎস নয়। মায়ের দুধ শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত খাওয়াতে হবে। গরুর দুধ ও কৌটার দুধ কোনো অবস্থাতেই খুব ভালো খাবার নয়।

  • শিশুর ছয় মাস পূর্ণ হলে ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে পরিবারের স্বাভাবিক খাবারের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, ছোট মাছ, ডাল, বাদাম ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসা

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে অতি সাবধানতার সঙ্গে শিরায় ক্যালসিয়াম দিতে হবে, পাশাপাশি প্রয়োজনমতো ভিটামিন ডি দিতে হবে। ম্যাগনেশিয়ামের অভাব থাকলে ইনজেকশনের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হবে।

ডা. রবি বিশ্বাস, শিশু হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা শিশু হাসপাতাল