এনজিওগ্রাম কী? হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় এটি কেন দরকার হয়

হার্টের যেকোনো সমস্যায় সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণমডেল: কাওসার, ছবি: প্রথম আলো

হার্ট অ্যাটাকে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে। হার্ট বা হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক তৈরি হলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। হঠাৎ রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হলেই হয় হার্ট অ্যাটাক। এ অবস্থায় যদি রোগীকে দ্রুত এমন হাসপাতালে নেওয়া যায়, যেখানে এনজিওগ্রাম করার সুযোগ আছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই এনজিওগ্রাম করে রিং বা স্টেন্ট লাগিয়ে ব্লক খুলে দেওয়া সম্ভব হয়। এতে হার্টের ক্ষতি কম হয়, দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে রোগী। তবে তাৎক্ষণিক এনজিওগ্রাম করা সম্ভব না হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে স্থিতিশীল করার পর এনজিওগ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়। হার্ট অ্যাটাক ছাড়া যেসব রোগীর বুকে চাপ বা ব্যথা হয়, বিশেষ করে হাঁটাচলা বা পরিশ্রমের সময়, তাদের ক্ষেত্রেও হার্টের রক্তনালিতে ব্লক থাকতে পারে। এ অবস্থায় হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিগুলো আমলে নিয়ে একজন হৃদ্‌রোগবিশেষজ্ঞ বুকে ব্যথার ধরন পর্যালোচনা করেন এবং আগে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ক্ষেত্রবিশেষে ট্রেডমিল টেস্ট করে দেখা হয়। এরপর প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম করা হয়।

এনজিওগ্রাম হলো হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির পরিস্থিতি দেখতে ও ব্লকের মাত্রা নির্ণয় করার একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা
ছবি: উইকিপিডিয়া

এনজিওগ্রাম কী

এনজিওগ্রাম হলো হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির পরিস্থিতি দেখতে ও ব্লকের মাত্রা নির্ণয় করার একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ফল দেখেই একজন হৃদ্‌রোগবিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেন, রোগীর রিং বা স্টেন্ট লাগবে কি না, বাইপাস সার্জারি প্রয়োজন কি না, নাকি শুধু ওষুধেই চলবে।

এনজিওগ্রাম কীভাবে হয়

এনজিওগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি হয়ে করতে হয়, তবে এতে রোগীকে অজ্ঞান করার দরকার পড়ে না। রোগীর কবজি বা কুঁচকির রক্তনালি দিয়ে একটি সরু নল (ক্যাথেটার) হার্টের রক্তনালিতে পৌঁছানো হয়। এরপর বিশেষ ধরনের তরল পদার্থ ইনজেকশনের মাধ্যমে দিয়ে এক্স-রে মেশিনে রক্তনালির ছবি তোলা হয়। এতে বোঝা যায় রক্তনালিতে ব্লক আছে কি না, থাকলে কতটুকু বা কোন রক্তনালিতে কতটা ব্লক রয়েছে। যদি রিং লাগানোর প্রয়োজন হয়, অনেক সময় একই সেটিংয়ে তা করা যায়। আর যদি বাইপাস সার্জারি বা ওষুধ চিকিৎসাই যথেষ্ট হয়, সেটাও তখনই নির্ধারণ করা যায়।

এনজিওগ্রাম কি ঝুঁকিপূর্ণ

অভিজ্ঞ চিকিৎসকের হাতে এনজিওগ্রাম সাধারণত নিরাপদ। তবে যেকোনো চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার মতোই এতে কিছু ঝুঁকি থাকে। কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। একাধিকবার করার প্রয়োজন হলে তা–ও সম্ভব। এনজিওগ্রামের আগে রোগী ও স্বজনদের উচিত চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা—রিং লাগাতে হতে পারে কি না, খরচ কেমন এবং চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে।

পরামর্শ

হার্টের যেকোনো সমস্যায় সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এনজিওগ্রাম রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণের এক নির্ভরযোগ্য উপায়। সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদ্‌রোগ মোকাবিলা অনেকটাই সহজ হয়।

আরও পড়ুন