শৈশবে ৫টি ডোজ নেওয়ার পরও কেন আবার ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়া লাগে
অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশেও হঠাৎ ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী টিকাদানের হার কিছুটা কমে যাওয়া, টিকার কার্যকারিতা দীর্ঘ মেয়াদে হ্রাস পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আধিক্যই এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ার নতুন কিছু স্ট্রেইনের বিস্তারও এর পেছনে দায়ী হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য ডিপথেরিয়া কোনো নতুন রোগ নয়। ২০১৭–১৮ সালের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রোগের একটি বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেকেরই, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ না নেওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে এসেছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় আমাদের এখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সব সময়ই বেশি থাকে।
ডিপথেরিয়া কতটা মারাত্মক?
কোরিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী একটি রোগ ডিপথেরিয়া। এটি প্রধানত নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে আক্রমণ করে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, আক্রান্ত ব্যক্তির গলায় ধূসর রঙের একটি শক্ত আস্তরণ বা সিউডোমেমব্রেন তৈরি হয়, যা শ্বাসনালি বন্ধ করে শ্বাসরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত টক্সিন বা বিষ রক্তে মিশে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগে মৃত্যু ঘটে।
সুরক্ষিত থাকার উপায়
এই মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে সচেতন হতে হবে।
১. টিকাদান নিশ্চিত করা: ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো টিকা। শিশুদের ‘পেন্টাভ্যালেন্ট’ টিকার মাধ্যমে এর সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, শৈশবের টিকার মেয়াদ আজীবন থাকে না। তাই শৈশবের পাঁচটি ডোজ সম্পন্ন করার পর, ১১–১২ বছর বয়সে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১০ বছর পরপর টিডি বা টিড্যাপ বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।
২. সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি: হাঁচি–কাশির সময় রুমাল ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
৩. দ্রুত চিকিৎসা: তীব্র গলাব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গলায় ধূসর আস্তরণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।
সচেতনতা ও সঠিক সময়ে টিকাদানই পারে আমাদের এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে মুক্ত রাখতে।
ডা. কাকলী হালদার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ