শহুরে সুপারশপে ঢুকেছে কাউফল, জেনে নিন এর উপকারিতা
গ্রামবাংলার পরিচিত অনেক ফলের দেখাই আপনি আধুনিক শহুরে এলাকায় খুব একটা পাবেন না। এত দিন পর্যন্ত এই দেখা না পাওয়ার তালিকায় ছিল কাউফল। তবে সম্প্রতি রাজধানীর বুকেও দেখা মিলছে এই ফলের। সুপারশপগুলোয়ও পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে এই ফল।
হঠাৎ কাউফলের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণটাই–বা কী? শহুরে জীবনে অনেকটাই অচেনা হয়ে থাকা এই ফল আদতে কতটা উপকারী? এ বিষয়ে আলাপ হলো টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খানের সঙ্গে।
শহুরে জীবনে ভিন্নতার আয়োজন
শহুরে জীবনধারার একঘেয়েমি কাটাতে প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়ার ভাবনা নতুন নয়। গ্রামে বড় হয়েছেন, এমন বহু মানুষের শৈশবে কাউফলের মতো নানান ফলের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দেশজ ও গ্রামীণ পণ্যকে নতুনভাবে নিজেদের জীবনে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করেন এমন মানুষেরা। ছোট্ট একখানা ফলও সেই জীবনের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
কেউ কেউ আবার কখনো না দেখা ফলের স্বাদ নেওয়ার আগ্রহ থেকেই চেখে দেখছেন কাউফল। এর টক–মিষ্টি স্বাদের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছেন ভিন্নতা। ডিজিটাল মাধ্যমে এমন ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ায় অন্যরাও এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
টক–মিষ্টি স্বাদের এই ফল কাঁচা ও পাকা অবস্থাতেই খাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায় মিষ্টতা কম থাকে। সেই সময় নানান মসলা দিয়ে ভর্তা, চাটনি বা আচার করে খাওয়া যায় এই ফল। পাকা ফলে তেমন কোনো মসলা যোগ না করলেও চলে।
উপকারিতা
কাউফলে আছে ভিটামিন সি, বিটা–ক্যারোটিন ও অন্যান্য অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান। ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য খুব জরুরি এক উপাদান। রোজই ভিটামিন সি খাওয়া প্রয়োজন। মৌসুমি নানান ফলমূল থেকেই ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
কাউফল বর্ষার ফল। এই মৌসুমের রোগবালাই প্রতিরোধে কাউফল কাজে দেবে। বিটা–ক্যারোটিন আমাদের দেহে ভিটামিন এ–তে রূপান্তরিত হয়। বিশেষত শিশুদের চোখের জন্য ভিটামিন এ দারুণ উপকারী। তা ছাড়া ভিটামিন সি ও কাউফলে থাকা অন্যান্য অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান মানবদেহের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের কোলাজেন তৈরিতেও ভিটামিন সি অপরিহার্য।
কাউফলে আরও আছে উপকারী আঁশ। এই আঁশ হজমের প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে দারুণ কাজে আসে। রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা রয়েছে।
কাঁচা ও পাকা অবস্থাতেই কাউফলের স্বাদ চমৎকার। রুচি বাড়াতে কাজে দেয় এই ফল। নানান কারণে ক্ষুধামান্দ্য বা অরুচি হতে পারে। সেই সময় খেতে পারেন কাউফল।
তবে খেয়াল রাখুন
কাউফল উপকারী। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। হজমে সমস্যা হতে পারে।
মিষ্টি কাউফলে ক্যালরির মাত্রা কিছুটা বেশি। স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তাই মিষ্টি কাউফলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
লবণ, বিট লবণ, কাসুন্দি প্রভৃতিতে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি। তাই উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা যাঁদের আগে কখনো স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এসব উপাদান যোগ করে কাউফল গ্রহণ করা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যাঁদের রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করতে হয়, তাঁদের খাদ্যতালিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।