লক্ষণ

কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বোধ হওয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় গলা-বুকে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া। কিছু ক্ষেত্রে কাশি ছাড়া অন্য লক্ষণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে থাকে না, বিশেষ করে কাফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা থাকলে।

যেসব কারণে বাড়তে পারে

  • ভাইরাসের সংক্রমণ, ঠান্ডা আবহাওয়া, বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশগত কারণ, মানসিক চাপ, মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন অ্যাসপিরিন, প্রোপানল, ডাইক্লোফেনাক, এসিক্লোফেনাক) হাঁপানির সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • নির্দিষ্ট কোনো খাবারের কারণেও হতে পারে।

  • রোগীর অসুস্থতার ইতিহাস ও পালমোনারি ফাংশন টেস্ট/স্পাইরোমেট্রির সাহায্যে হাঁপানি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণ

যদিও হাঁপানির পরিপূর্ণ নিরাময় সবক্ষেত্রে সম্ভব নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। হাঁপানির নানা রকম ওষুধ রয়েছে। যেমন—

  • দ্রুত উদ্ধারকারী ওষুধ: বিটা-অ্যাগোনিস্ট, যেমন সালবিউটামল বা লেভো সালবিউটামল।

  • দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধকারী: ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডস, যেমন ফ্লুটিকাসন, বুডিসোনাইড, বিক্লোমিথাসোন ইত্যাদি।

  • এর বাইরেও আরও নানা ধরনের ওষুধ আছে। এ ছাড়া ব্রঙ্কিয়াল থার্মোপ্লাস্টি নামের থেরাপি আছে। যাঁদের অ্যাজমা সমস্যা গুরুতর, অন্যান্য চিকিৎসায় যাঁদের রোগের উপশম হয় না, তাঁরা এই থেরাপি নিতে পারেন। তবে এটি নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা থাকতে হবে।

  • আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অ্যাজমা রোগীদের মুখে খাবার ওষুধের চেয়ে ইনহেলার ব্যবহার করতে বলা হয়। কারণ, এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, কম পরিমাণ ওষুধ লাগে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে খুব দ্রুত রোগের প্রকোপ কমে যায়। অনেকেই মনে করেন, ইনহেলার হাঁপানির সর্বশেষ চিকিৎসা। এটা ভুল ধারণা। জেনে রাখা ভালো, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের প্রথম ও নিরাপদ চিকিৎসা হচ্ছে ইনহেলার।

  • অ্যাজমা রোগীদের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত ফলোআপ জরুরি।

ডা. মো. খায়রুল আনাম, পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল