স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারেন এই দুটি কাজ করে
নারীদের একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে স্তন ক্যানসার। শুধু জিনগত কারণ নয়, আধুনিক জীবনযাপনের ধরন, যেমন অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ ও পেটের অতিরিক্ত মেদ এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, কিছু সহজ জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ঘুমের গুরুত্ব কেন এত বেশি
ভালো ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে মেলাটোনিনের মাত্রা কমে যায়, ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, নষ্ট হয় হরমোনের ভারসাম্য। বিশেষ করে এস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রাত জাগা, ঘুমের অনিয়মিত সময়সূচি কিংবা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের ডিএনএ মেরামতের প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করতে পারে, যা ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
পেটের মেদ কেন বেশি ক্ষতিকর
শুধু ওজন বেশি হওয়াই নয়, বিশেষ করে পেটের চারপাশে জমে থাকা মেদ (ভিসেরাল ফ্যাট) স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই মেদ থেকে প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণ হতে পারে।
মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে পেটের অতিরিক্ত মেদ শরীরে অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন তৈরি করে, যা স্তন ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান।
করণীয়
স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনুন—
প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ও নিয়মিত ঘুম।
পরিমিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, বিশেষ করে হাঁটা ও পেটের মেদ কমানোর ব্যায়াম।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও ধ্যান।