ব্যবহারপদ্ধতি

  • ভালো করে হাত ধুয়ে অথবা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।

  • নির্দিষ্ট গ্লুকোমিটারের জন্য নির্ধারিত স্ট্রিপ ব্যবহার করতে হবে। প্রতিবার ফুটো করতে নতুন সুই বা ল্যানসেট ব্যবহার করুন।

  • চেপে রক্ত বের না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসা একটা বড় ফোঁটা রক্ত দিয়ে পরীক্ষা করুন। কারণ, গ্লুকোমিটারভেদে খুব কম (০.৩-১ মাইক্রোলিটার) রক্ত প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত কম হলে ফলাফল নাও পেতে পারেন।

  • বারবার পরীক্ষায় ভিন্ন আঙুল ব্যবহার করুন।

  • নির্ধারিত চার্টে পরীক্ষার সময় ও ফলাফল লিখে রাখুন।

  • ব্যবহৃত স্ট্রিপ ও সুই সাবধানতার সঙ্গে নিরাপদ স্থানে ফেলুন।

  • গ্লুকোমিটারটি পরিষ্কার রাখুন।

কতবার পরীক্ষা করবেন

ডায়াবেটিসের ধরন, চিকিৎসাপদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য রোগের সংশ্লিষ্টতার ওপর কতবার রক্ত পরীক্ষা করবেন, তা নির্ভর করে। ক্ষেত্র বিশেষে দৈনিক চার থেকে আটবার করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন তিন বেলা প্রধান খাবারের আগে ও দুই ঘণ্টা পরে। কারও কারও ক্ষেত্রে ঘুমানোর আগে বা শেষ রাতে, হাঁটা বা ব্যায়ামের আগে ও পরে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

সালফোনাইল ইউরিয়া জাতীয় মুখে খাওয়ার ওষুধ যাঁরা সেবন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার সকালে খালি পেটে ও তিন বেলা প্রধান খাবার গ্রহণের দুই ঘণ্টা পরে পরীক্ষা করা উচিত।

ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীদের সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার ওপরের নিয়মে অথবা ভাগে ভাগে যেমন কোনো দিন সকালে খালি পেটে ও খাবার পরে আবার কোনো দিন দুপুরে বা রাতের খাবারের আগে ও পরে করা যেতে পারে।

তবে যাঁদের ডায়াবেটিস খুব বেশি মাত্রায় ওঠানামা করে, অন্য অসুস্থতা থাকলে, ওষুধের ধরন বা মাত্রা পরিবর্তিত হলে আরও ঘনঘন পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া শরীরে ব্লাড সুগার কমে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশিত হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রাপ্ত ফলাফল কতটা নির্ভুল

ভালো মানের গ্লুকোমিটার প্রায় নির্ভুল ফলাফল দেয়। তবে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন হেমাটোক্রিট স্বল্পতা, এনিমিয়া বা পানি স্বল্পতায় ভুল রিপোর্ট আসতে পারে। তা ছাড়া স্ট্রিপে পরিমাণ মতো রক্ত না পৌঁছালে, মেয়াদবিহীন বা দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত স্ট্রিপের ফলে বা স্ট্রিপের কোড সঠিকভাবে না মিললে ফলাফল ভুল আসতে পারে। রক্তের শর্করা খুব বেশি বা কম হলে গ্লুকোমিটারে হাই বা লো নির্দেশ করতে পারে। সন্দেহ থাকলে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। সাধারণত ল্যাবরেটরিতে ও গ্লুকোমিটারে পরীক্ষার ফলাফলে কিছুটা পার্থক্য থাকে। নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্লুকোমিটারে পরিমাপের নির্ভুলতা যাচাই করতে একই সময়ে ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বিশেষ করে এর সঙ্গে তিন মাস পরপর এইচবিএওয়ানসি (HbA1c) পরীক্ষা করে দেখা উচিত গড়ে শর্করার মাত্রা ঠিক আছে কি না।

গুরুত্ব

বর্তমানে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব বিবেচনায় রোগীদের নিয়মিতভাবে বাসায় রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। রোগীদের এ ব্যাপারে শিক্ষা দিতে হবে। বাসায় পরীক্ষা করে শর্করার মাত্রা বেড়ে বা কমে গেলে প্রাথমিক ও জরুরি করণীয় সম্পর্কে রোগী ও তাঁর স্বজনদের সম্যক ধারণা দিতে হবে। বিশেষ করে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার (চার মিলিমোলের কম) মতো পরিস্থিতিতে একটি গ্লুকোমিটার একজনের জীবন বাঁচাতে সক্ষম। যদি এমন মাত্রা পাওয়া যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে রোগকে চিনিযুক্ত খাবার খাইয়ে দিতে হবে।

*ডা. এ হাসনাত শাহীন: ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন রোগবিশেষজ্ঞ এবং কনসালট্যান্ট, ইমপালস হাসপাতাল, ঢাকা