এ বছর কি কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া নিরাপদ
শীত আসার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের কথা শোনা যাচ্ছে। নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ। এই ভাইরাস বাদুড়ে খাওয়া খেজুর রস বা ফল খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে অথবা তার লালা বা মলমূত্রের দ্বারা এই রোগ সংক্রমিত হয়ে থাকে। এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৫টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
লক্ষণ কী
জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে। রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারে, মৃত্যুঝুঁকিও থাকে।
কীভাবে শনাক্ত করা যায়
সংক্রমণের প্রথম দিকে আরটি পিসিআর এবং কয়েক দিন পার হয়ে গেলে এলাইজা পরীক্ষার দ্বারা রোগ শনাক্ত করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করা হয় গলা থেকে (থ্রোট সোয়াব), নাক থেকে, রক্ত বা মূত্র, এমনকি মেরুদণ্ড থেকে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড নিয়েও পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা কী
নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। শুধু সহায়ক বা সাপোর্টিভ চিকিৎসা আছে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে বেশি। স্যালাইন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্যারাসিটামল, শ্বাসকষ্ট থাকলে ও অক্সিজেন কমে গেলে অক্সিজেন থেরাপি; মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে থাকলে, খিঁচুনি হলে তার জন্য চিকিৎসা ইত্যাদি জরুরি। কিছু অ্যান্টিভাইরাল বা মনোক্লনাল অ্যান্টিবডি ব্যবহার নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান।
প্রতিরোধে জরুরি
কাঁচা খেজুরের রস খাবেন না। খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে বা ফুটিয়ে খাওয়া যাবে।
কাঁচা বা গাছ থেকে পাড়া কোনো ফলে কামড়ের দাগ দেখলে খাবেন না।
যেকোনো ফল ভালো করে ধুয়ে খোসা ফেলে দিয়ে খান। যেসব গাছে বাদুড় থাকে,সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।
সন্দেহ হলে রোগীর নমুনা ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ বা আইইডিসিআরে পাঠাতে হবে এবং রিপোর্ট করতে হবে।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা কামরায় থাকতে হবে।
রোগীর সেবাদানকারীকে বারবার হাত ধোয়া ও মাস্ক পরা উচিত।
যদি রোগ নিশ্চিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে নিযুক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই পরিধান করা উচিত (মাস্ক, গ্লাভস, গগলস)।
হাসপাতালে উপযুক্ত জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে।
রোগী মারা গেলে মরদেহ এয়ারসিলড ব্যাগে বহন করতে হবে।
ডা. রোজানা রউফ, কনসালট্যান্ট মেডিসিন বিভাগ ইউনিকো হাসপাতাল গ্রিন রোড