ওরাল ক্যানসার কেন হয়, প্রতিকার ও চিকিৎসা কী
বিশ্বব্যাপী ওরাল বা মুখগহ্বরের ক্যানসার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৬ হাজারের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, মুখের ভেতর, তালু বা গলার ভেতরের অংশে এই ক্যানসার হয়ে থাকে। দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দেওয়ায় দিন দিন বেড়ে চলেছে এই রোগ।
ওরাল ক্যানসার কেন হয়
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পান, সুপারি, জর্দা, গুল, তামাক, খইনি সেবন করেন বা যাঁরা মদপান ও ধূমপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ক্যানসারে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি।
মুখে ভাঙা বা ধারালো দাঁত থাকার কারণেও মুখগহ্বরে ক্যানসার হতে পারে।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ও অতিরিক্ত সূর্যরশ্মির জন্যও এটি হতে পারে।
ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ
ঠোঁট বা মুখের ভেতরে হওয়া ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন ঘা, যা সহজে সারে না।
মুখের ভেতরে সাদা (লিউকোপ্লাকিয়া) বা লাল (এরিথ্রোপ্লাকিয়া) ছোপ।
জিব বা গালের ভেতরের কোনো অংশে পিণ্ড বা ফোলাভাব।
চিবানো বা ঢোক গেলার সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া।
ওজন কমে যাওয়া।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে হবে। রোগ যত দ্রুত শনাক্ত হবে, সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
চিকিৎসা
সার্জারি: টিউমার অপসারণ।
রেডিয়েশন থেরাপি: ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে বিকিরণ ব্যবহার করা হয়।
কেমোথেরাপি: ওষুধের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা হয়।
প্রতিকার
দৈনন্দিন জীবনে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার মাধ্যমে মুখগহ্বরের ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
মুখে কোনো অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে অবহেলা করবেন না।
নিজে নিজে সেরে যাবে ভেবে বসে থাকবেন না।
প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, মুখে একটা সামান্য ঘা থেকেই শুরু হতে পারে বিপদ।
তামাকজাত দ্রব্য ত্যাগ করুন। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করুন। সময়মতো হিউম্যান প্যাপিলোভা ভাইরাস টিকা নিন।
নিয়মিত দাঁত ও মুখগহ্বরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন, আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট, (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর ১০, ঢাকা